সিলেট অফিস
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:২০ পিএম
জমসিদ আলী। ফাইল ফটো
স্ত্রীর জানাজার নামাজের ঘণ্টাখানেক আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সিলেটের বিশ্বনাথের জমসিদ আলী। চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ডাক্তারের কাছে। জানাজার নামাজের নির্ধারিত সময়ের আগে ফিরে এসে সন্তানদের বলেন, ‘তোমাদের মায়ের সাথে আমাকেও দাফন করো।’ সৃষ্টিকর্তা যেন তার এই চাওয়াটাই কবুল করেছেন। স্ত্রীর জানাজা নামাজের ১০ মিনিট আগে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।
রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে পৌর শহরের ইলামেরগাঁও (আটঘর) গ্রামে মর্মান্তিক ও ভালোবাসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের এই ঘটনাটি ঘটে। এর আগে শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন জমসিদ আলীর স্ত্রী হাওয়ারুন নেছা। রবিবার সকাল ১১টায় তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
একই সাথে পরপারে পাড়ি দেওয়ার মধ্য দিয়ে ‘স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে থাকা ভালাবাসার চিরন্তন বন্ধনের ঘটনাটি যুগ যুগ ধরে আরও অনেকের কাছে একটি স্মরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে। যদিও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি অনেক কষ্ঠদায়ক।
এদিকে হাওয়ারুন নেছার জানাজার নামাজ নির্ধারিত সময় অনুষ্ঠিত হলেও জমসিদ আলীর জানাজার নামাজ রবিবার বাদ আছর অনুষ্ঠিত হয়।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের মাতম চলছে। মৃত্যুর পূর্বে ওই দম্পত্তি ৬ ছেলে, ২ মেয়ে, নাতী-নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
মরহুম দম্পত্তির ছেলে আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমাদের আম্মার মৃত্যুর পর রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় জানাজার নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়ে ছিল। এর ঘন্টাখানেক আগে হঠাৎ আব্বা অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাকে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। চিকিৎসা শেষে বাড়িতে আসার পর আম্মার জানাজার নামাজে ১০-১৫ মিনিট আগে আব্বাও মারা যান। একসাথে আব্বা-আম্মার মৃত্যু আমাদের কাছে অনেক কষ্ঠদায়ক।’