আবুল হাসান, মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৩:২৩ পিএম
আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৩:২৬ পিএম
সময়ের পরিক্রমায় ব্যস্ততা বেড়েছে মোংলা বন্দরের। আমদানিকারকরা আস্থা রাখায় দিন দিন বাড়ছে কন্টেইনারবাহী জাহাজের আগমন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় বাণিজ্যিক জাহাজ আগমনে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ, কার্গো পরিবহন ৯ দশমিক ৭২, কন্টেইনার পরিবহনে ১৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি বেড়েছে ১৩ শতাংশ। কিন্তু বন্দরের যাত্রা শুরুর পর থেকে মাত্র ৫টি জেটি দিয়ে চলছে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং। ক্রমবর্ধমান চাপ সামলাতে কর্তৃপক্ষ নতুন ছয়টি জেটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দুটির কাজ ৬০ শতাংশের মতো সম্পন্ন হয়েছে। বাকিগুলো রয়েছে পরিকল্পনার পর্যায়ে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ইতোমধ্যে ৩ ও ৪ নম্বর জেটির নির্মাণকাজ ৬২ শতাংশ শেষ হয়েছে। এই দুটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৮০০ কোটি টাকা। আর ১ ও ২ নম্বর জেটি নির্মাণ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া ১১ ও ১২ নম্বর জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। জেটিগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে গেলে মোংলা বন্দর বড় অর্থনৈতিক হাব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মোংলা বন্দরের জেটি নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর শফিকুল ইসলাম সরকার।
বন্দরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মোংলা বন্দরে বর্তমানে ৫ থেকে ৯ নম্বর জেটি নামে ৫টি জেটি রয়েছে। তিন দশকের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনাল যন্ত্রপাতি দিয়ে চলছিল কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং। পদ্মা সেতুর পর এই বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে সংযোজন হয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। ভৌগোলিক দিকে দিয়ে মোংলা বন্দর কৌশলগত স্থানে অবস্থিত। বাংলাদেশের সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, নেপাল, ভুটান ও ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো এ বন্দরের মাধ্যমে মালামাল পরিবহন হয়। এক পর্যায়ে এ বন্দরের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এর সম্প্রসারণ জরুরি হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ছয়টি জেটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জেটিগুলো পুরোপুরি নির্মাণ হলে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের কাজে গতি পাবে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বন্দরে পণ্য ওঠানামার ক্ষেত্রে যে জটিলতা দেখা দেয়, সেটি কমে আসবে এবং বন্দরের সক্ষমতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমাতে হলে মোংলা বন্দরকে আরও আধুনিকায়ন করাসহ জনবলও বাড়াতে হবে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণাধীন ৩ ও ৪ নম্বর জেটিসহ ছয়টি জেটি নির্মাণ হলে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়বে। এ ছাড়া পণ্যের চাপ সামলানো এবং আন্তর্জাতিকভাবে এর প্রসারও ঘটবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) এবং জেটি নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক কমোডর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার জানান, নির্মাণাধীন ৩ ও ৪ নম্বর জেটির কাজ দেড় বছরের মধ্যে শেষ হবে। এই দুটি জেটির নির্মাণকাজ এরই মধ্যে ৬২ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া ১ ও ২ নম্বর জেটি নির্মাণের জন্য একনেক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে ১১ ও ১২ নম্বর নামে আরও দুটি জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ৬ জেটির নির্মাণকাজ শেষ হলে মোংলা বন্দরে সার্বিক কার্যক্রমে গতিশীল হবে। বন্দরে মাঝে মাঝে যে জট হয়, সেটি আর থাকবে না। কন্টেইনার এবং কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যাবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে বন্দরের চারটি প্রকল্প চলমান। এর মধ্যে পশুর চ্যানেলের ইনার বারে (জেটি-সংলগ্ন) ড্রেজিং শেষ হলে বন্দরের জেটিতে ১০ মিটার পর্যন্ত ড্রাফটের (গভীরতা) জাহাজ হ্যান্ডলিং সুবিধা তৈরি হবে। এ ছাড়া ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট প্রকল্প’-এর মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এই প্রকল্প শেষ হলে বছরে ১ কোটি ৫০ লাখ টন কার্গো, চার লাখ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা তৈরি হবে। এ ছাড়া বন্দরে চলমান দুটি জেটির নির্মাণকাজ শেষ হলে বছরে আরও দুই লাখ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।