আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ ১৬:০৬ পিএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ ১৬:৪৬ পিএম
রেলওয়ে স্টাফদের কর্মবিরতির কারণে মঙ্গলবার সকালে আখাউড়া জংশন স্টেশনে এসে ট্রেন না পেয়ে ফেরত যান যাত্রীরা। প্রবা ফটো
রেলওয়ে স্টাফদের কর্মবিরতিতে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় সারা দেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে আখাউড়া জংশন স্টেশনে এসে ট্রেন না পেয়ে ফেরত যান অনেকে। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার কারণে অলস সময় কাটাচ্ছেন স্টেশন মাস্টার, টিকিট কাউন্টারের কর্মী থেকে শুরু করে এলাকার শ্রমিক, অটোরিকশা ও ইজি বাইকচালকরা।
আখাউড়া রেলস্টেশন সূত্রে জানা যায়, পূর্বাঞ্চল রেলপথের এই জংশন স্টেশনে যাত্রা বিরতি দিয়ে চলাচল করে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস, বিজয় এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, মহানগর গোধূলী, মহানগর এক্সপ্রেস, উদয়ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীতা এক্সপ্রেস, চিটাগং মেইল, চট্রলা এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস। আর তিতাস কমিউটার ট্রেন সকালে আখাউড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। কর্মবিরতির ফলে বন্ধ রয়েছে এসব ট্রেন চলাচল। তবে সোমবার রাতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলো স্টেশনে যাত্রা বিরতী দিয়ে গন্তব্যর উদ্দেশে আখাউড়া স্টেশন ছেড়ে গেছে। মঙ্গলবার সকালে তিতাস কমিউটার ছেড়ে যায়নি। উপকূল এক্সপ্রেস, চট্রলা এক্সপ্রেস ও মহানগর প্রভাতী ট্রেন আসেনি।
ইজিবাইক চালক হাবির মিয়া বলেন, ‘আমরা রেলস্টেশনের যাত্রী পরিবহন করি। এখানে এসে দেখি ট্রেনও আসে না, যাত্রীও নেই। যারা এসেছিলেন, তারা ট্রেন না পেয়ে চলে গেছেন।’
উপজেলার মনিয়ন্দ এলাকা থেকে আসা ফারজানা আক্তার নামে এক যাত্রী বলেন, ‘আমার ঢাকা যাওয়া জরুরি ছিল। উপকূল ট্রেনের টিকিট কেটে রেখেছিলাম। কিন্তু স্টেশনে এসে শুনলাম রেল-ধর্মঘট চলছে। নিরুপায় হয়ে ফেরত যাচ্ছি। এখন সড়ক পথে যেতে হবে।’
বিদেশগামী যাত্রী সোহেল রানা বলেন, ‘চট্রলা ট্রেনের টিকিট কেটেছিলাম, স্টেশনে এসে শুনলাম ট্রেন চলাচল বন্ধ। বিকেল পাঁচটায় ফ্লাইট এখন সড়ক পথে গিয়ে ফ্লাইট ধরতে পারবো কি না! জানি না। যদি ফ্লাইট মিস হয় তাহলে আমার ক্ষতিপূরণ কে দিবে।’
আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মো. নূরনবী বলেন, ‘আমরা সময়মতো স্টেশনে এসেছি। অফিস খুলেছি। আমাদের টিকিট কাউন্টার খোলা রয়েছে। কিন্তু যেহেতু ট্রেন চলাচল করছে না, সে কারণেই যাত্রীরাও ট্রেনের টিকিট কাটছেন না। আখাউড়া থেকে ঢাকাগামী তিতাস কমিউটার ছেড়ে যায়নি। উপকূল এক্সপ্রেস, চট্রলা এক্সপ্রেস ও মহানগর প্রভাতীও আসেনি।’