সিলেট অফিস
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ ১৩:১১ পিএম
সারা দেশের মত সিলেটেও চলছে রেলওয়ের রানিং স্টাফদের বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি। ফলে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) মধ্যরাত থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
কর্মবিরতির কারণে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে কোনো ট্রেন ছেড়ে যায়নি। ট্রেনের যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। কিন্তু সকাল ১১টা পর্যন্ত সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে কেউ বিআরটিসি বাসে যেতে দেখা যায়নি।
সিলেট থেকে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া যাত্রীরা স্টেশনে এলেও নিজ গন্তব্যে যেতে পারছেন না তারা। স্টেশনে যাত্রীরা এসে ফিরে যেতে হয়েছে।
ট্রেনের শিডিউল অনুযায়ী সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস, দুপুর ১২টায় ঢাকাগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকাগামী সুরমা মেইল, রাত ১০টায় চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ও রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ঢাকাগামী উদয়ন এক্সপ্রেস সিলেট ছেড়ে যাওয়ার কথা। কর্মবিরতি অব্যাহত থাকলে এসব ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, অনেকেই ট্রেন চলাচল বন্ধের খবর জানতেন না, স্টেশনে এসে ট্রেনের অপেক্ষায় বসে রয়েছেন। কেউ কেউ চট্টগ্রামের টিকিটি করে সেখানে হোটেল বুকিং দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার ফলে এখন পড়েছেন বিপাকে।
ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে যাত্রীরা জানান, আমরা অনেকে অনলাইনে টিকিট কেটেছি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অন্তত একটা ম্যাসেজ দিয়ে আমাদের এই তথ্য জানাতে পারত। তাহলে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করতাম। কিন্তু সেটা না করায় এখন আমাদের চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে।
ঢাকার যাত্রী হাসিব মিয়া বলেন, পূর্বে কোনো ঘোষণা ছাড়াই এমন কর্মসূচি দেওয়াটাই ঠিক হয়নি। তাদের কর্মসূচির কারণে আমরা এতগুলো মানুষ এখন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
জানা যায়, মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন এবং আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে জটিলতা নিরসন না হওয়ায় সারা দেশের মতো সিলেটেও কর্মবিরতি পালন করছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফরা। রানিং স্টাফরা হলেন- গার্ড, ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার), সহকারী চালক ও টিকিট পরিদর্শক (টিটিই)।
এ ব্যাপারে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে। যখনই নির্দেশনা আসবে ট্রেন ছেড়ে যাবে। যেসব ট্রেনের শিডিউল বাতিল হয়েছে বা বাতিল হবে সে সব ট্রেনের টিকিট রিফান্ড করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ট্রেনের যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। যারা বাসে যেতে চান তারা এখান থেকে যেতে পারবেন। কিন্তু আমাদের এখানে বাস আসেনি।