চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১৭:৫৫ পিএম
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১৮:০৮ পিএম
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি এক মাসের বেশি সময় ধরে শূন্য। এতে নামজারিসহ নানা কাজে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলার ২১ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নামজারি ও জমাখারিজসহ ভূমিসংক্রান্ত নানা কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। নামজারি জমাখারিজের অভাবে অনেকেরই জমি বেচাকেনা বন্ধ আছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল হাছনাত বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসনা শারমিন মিথি নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ওই পদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
উপজেলার নুরাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার শিবলু রহমান নোমান জানান, প্রায় ২ মাস আগে নামজারি জমাখারিজের আবেদন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত জমির নামজারি জমাখারিজ হয়নি। কবে নাগাদ জমাখারিজ হবে, তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না অফিসের কেউ।
আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল মতিন পাটওয়ারী জানান, এসিল্যান্ড না থাকায় জমির নামজারি করতে পারছি না। সেবা নিতে এসে আমার মতো অনেকেই এখন বেকায়দায়।
দুলারহাটের দলিল লেখক আবদুল হক জানান, ডিসেম্বর মাসের পুরো সময়টা ধরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সার্ভার বন্ধ থাকায় নামজারিসহ বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত ছিল সাধারণ মানুষ। এ ছাড়াও বর্তমানে চরফ্যাশনে এসিল্যান্ড না থাকায় নামজারি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে সঠিক সময়ের মধ্যে সেবাগ্রহীতারা নামজারি করতে না পারায় দলিল রেজিস্ট্রি করতে পারছেন না।
নুরাবাদ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মুসফিকুর রহমান জানান, প্রায় এক মাস ধরে এসিল্যাল্ড না থাকায় নামজারিসহ বিভিন্ন কাজের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। সেবাগ্রহীতারা ঠিকমতো সেবা নিতে পারছেন না। সেবাদানে বিঘ্ন ঘটছে। চরফ্যাশনে এসিল্যান্ড নিয়োগ দিলে সেবাগ্রহীতাদের কষ্ট পোহাতে হবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসনা শারমিন মিথি জানান, নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছি। তাই পূর্ণ সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। জানাতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান জানান, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে এক সপ্তাহের মধ্যে চরফ্যাশনে এসিল্যান্ড পদায়ন করা হবে।