রাসেল মাহমুদ, বরগুনা
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১০:২০ এএম
প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ খেয়াঘাট দিয়ে পারাপার হলেও নেই কোনো যাত্রী ছাউনি ও শৌচাগারের মতো জরুরি সেবার ব্যবস্থা। বুধবার বিকালে বরগুনার আমতলী ফেরিঘাটে। প্রবা ফটো
উপকূলীয় জেলা বরগুনার চারদিকে নদী। নদীর ওপারে রয়েছে তিনটি উপজেলা। জেলার সঙ্গে উপজেলার জনসাধারণের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে ট্রলার বা নৌকা। তাই প্রতিবছর বরগুনার খেয়াঘাটগুলো থেকে সরকার কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নেই যাত্রীদের জন্য। এতে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন খেয়াঘাট ঘুরে দেখা যায়, জেলার ছয় উপজেলায় ১৫টি খেয়াঘাট রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ঘাটে যাত্রী ছাউনি থাকলেও তা জরাজীর্ণ; যা ব্যবহারের উপযোগী নয়। বাকিগুলোর মধ্যে তিনটি স্থানীয়রা দখলে নিয়ে দুটিতে দোকান বসানো হয়েছে। আর একটি বেড়া দিয়ে ঘিরে নামাজের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর বাইরে কোনোটিতেই যাত্রী ছাউনি নেই। এ ছাড়া কোনো খেয়াঘাটেই যাত্রীদের জন্য ওয়াশরুমের ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনার বড়ইতলা বাইনচটকি খেয়াঘাট এক কোটি সাত লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। ঘাটের বাইনচটকি পাড়ের যাত্রী ছাউনি বেহাল। এক বছর আগে ঝড়ে বিধ্বস্ত হয় যাত্রী ছাউনির চাল। বড়ইতলা পাড়ের যাত্রী ছাউনিটি হয়েছে বেদখল। এ রুটের যাত্রীদের জন্য নেই আলাদা ঘাট। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ফেরিঘাট ব্যবহার করা হয় এখানে। এতে ঝুঁকি নিয়ে ভারী যানবাহনের সঙ্গে ওঠানামা করতে হয় যাত্রীদের। একই অবস্থা ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া আমতলী-পুরাকাটা খেয়াঘাটেরও।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ৫ কোটি ২২ লাখ টাকায় চলতি বছর বরগুনার ১৫টি খেয়াঘাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, এ খাত থেকে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও যাত্রীদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি।
বড়ইতরা খেয়াঘাটে বেল্লাল নামের এক যাত্রী বলেন, ‘খেয়াঘাটে বসার মতো একটু জায়গা নেই। ওয়াশরুমে যাওয়ার মতো ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টিতে কিংবা রোদে চায়ের দোকানে গিয়ে বসতে হয়। অথচ আমরা ভাড়া দিয়ে চলাচল করি। আমাদের জন্য ন্যূনতম কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই।’
গুলবুনিয়া খেয়াঘাটের যাত্রী জহুরা বলেন, ‘এখানে তো যাত্রী ছাউনি নেই। রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অথবা গাছতলায় বসতে হয়। ঝড়-বৃষ্টিতে এ রকম ভোগান্তি পোহাতে হয়। একটা ওয়াশরুমের ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘসময় এখানে-সেখানে সময় কাটাতে হয়। নারীদের জন্য ভোগান্তির শেষ নেই খেয়াঘাটগুলোতে।’
এ ব্যাপারে বরগুনা জেলা যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম টিটু বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে খেয়াঘাটগুলোতে যাত্রী হয়রানির বিষয় নিয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু সেসব অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি। যাত্রীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে, অথচ সরকার এ খাত থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করছে। আমাদের দাবি, প্রত্যেক ঘাটে যাত্রী হয়রানি বন্ধ করা হোক।’
বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘খেয়াঘাটগুলোতে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন করে চারটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণের জন্য নকশা করা হয়েছে। আর যেগুলো বেদখল হয়েছে বা যেগুলো বেহাল, সেগুলো সংস্কার ও উদ্ধারের জন্য চেষ্টা শুরু হয়েছে।’