× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

৩৭ বছর চালানোর পরও জাহাজ বিক্রি করে লাভে বিএসসি

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ ১৮:২৮ পিএম

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন(বিএসসি)। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন(বিএসসি)। ফাইল ছবি

এমটি বাংলার জ্যোতি ও এমটি বাংলার সৌরভ নামের জাহাজ দুটি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) বহরে যুক্ত হয়েছিল আজ থেকে ৩৭ বছর ৮ মাস ১২ দিন আগে। ডেনমার্কে তৈরি এ দুটি জাহাজ কিনতে ব্যয় হয়েছিল ৩০ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

বহরে যুক্ত করে ৩৭ বছর পরিচালনার পর জাহাজ দুটি এখন ৪০ কোটি ৪৪ লাখ টাকায় স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসসি। এই হিসাবে দীর্ঘ তিন যুগ পরিচালনার পরও এই দুটি জাহাজ স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রিতে লাভে আছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি। জাহাজ দুটি বিক্রি করে কেনা দাম থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে অবচয় খরচ মূল্যায়ন করলে জাহাজ দুটির বর্তমান অ্যাসেট ভ্যালু দাঁড়ায় ১৬ কোটি। সেখানে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করে বিএসসি পাচ্ছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএসসির মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন মো. মজিবুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিএসসি যেসব জাহাজ পরিচালনা করে ভালো লাভ করেছে, তার মধ্যে বাংলার জ্যোতি ও বাংলার সৌরভ অন্যতম। জাহাজ দুটি আন্তর্জাতিক রুটে যখন পরিচালনা করা হয়েছিল, তখনও ভালো ভাড়া পেত বিএসসি।’

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল নিষিদ্ধ হওয়ার পর জাহাজ দুটি দেশীয় জলসীমায় বহির্নোঙর থেকে তেল খালাসে ব্যবহার করা শুরু হয়। তখনও এ দুটি জাহাজ থেকে ভালো আয় হতো। এখন স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রির সময়ও জাহাজ দুটির ভালো দাম পেয়েছি। কেনা দাম থেকে ১০ কোটি টাকা বেশি দামে স্ক্র্যাপ বিক্রি করতে পেরেছি। কেনা দাম ছিল ৩০ কোটি ৯১ লাখ টাকা, এখন বিক্রি করে আমরা পাব ৪০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ভ্যাট, ট্যাক্স মিলে এ দুটি জাহাজের দাম পড়বে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।’

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালে বিএসসির বহরে যুক্ত হওয়া বাংলার জ্যোতি ও বাংলার সৌরভ জাহাজের প্রতিটির ওজন ৩ হাজার ৭৮৭ টন। ডেনমার্কে তৈরি করা ১৪ হাজার ৫৪১ টন ধারণক্ষমতার জাহাজ দুটি প্রথমে আন্তর্জাতিক রুটে তেল পরিবহনে নিয়োজিত ছিল। এরপর ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক রুটে সিঙ্গেল হাল অয়েল ট্যাংকার চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর জাহাজ দুটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে তেল পরিবহন করত।

এর আগে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের ডলফিন অয়েল জেটিতে নোঙর করা অবস্থায় বিএসসির মালিকানাধীন ‘এমটি বাংলার জ্যোতি’ জাহাজে বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়। এরপর ৫ অক্টোবর মধ্যরাতে প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি জাহাজ ‘এমটি বাংলার সৌরভ’-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তাতেও এক নাবিক নিহত হন। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে এই দুটি ট্যাংকার জাহাজে অগ্নিকাণ্ডে চারজনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ৩৭ বছর পুরোনো জাহাজ দুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিএসসি। এরপর জাহাজ দুটি স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১৪ জানুয়ারি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ এমটি বাংলার জ্যোতি ও এমটি বাংলার সৌরভ নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ। 

বিএসসি সূত্রে জানা যায়, জাহাজ দুটি বিক্রির জন্য গত ৫ ডিসেম্বর নিলাম বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। টেন্ডার ওপেন করা হয় ৭ জানুয়ারি। নিলামে ১৬টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠান নন-রেসপন্সিভ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বাকি ১৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয় চট্টগ্রামের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড মাস্টার অ্যান্ড ব্রাদার্স। জাহাজ দুটি কিনতে সর্বোচ্চ দর হাঁকা হয়েছে ৪০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। তবে জাহাজ দুটি কিনতে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ মোট ৫০ কোটি টাকা বিএসসিকে পরিশোধ করতে হবে।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমোডর মাহমুদুল মালেক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বোর্ড মিটিংয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা মাস্টার অ্যান্ড ব্রাদার্সের কাছে জাহাজ দুটি বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। বোর্ড মিটিংয়ে অনুমোদনের পর আমরা প্রতিষ্ঠানটিকে অফার দিয়েছিÑ পেমেন্ট পরিশোধ করার পর সাত দিনের মধ্যে আমরা তাদের জাহাজ দুটি বুঝিয়ে দেব।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নিলামের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট করার মতো কোনো অপশন বিএসসি রাখেনি। দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা এস্টিমেট মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জাহাজ দুটি বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছি। ওয়ার্ল্ড রেপুটেড তিনটি কোম্পানিÑ যারা ভেল্যুয়েশন করে এ রকম তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা প্রাইস নিয়ে ক্যালকুলেশন করে তার সঙ্গে অন্যান্য হিসাব করে একটা প্রাইজ এস্টিমেট করেছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এস্টিমেট মূল্য ছিল ৩৬ কোটি টাকা। আর সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান দর দিয়েছে ৪০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ভ্যাট-ট্যাক্স যুক্ত করলে জাহাজ দুটির দাম পড়বে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এখানে আমাদের নিট মুনাফা ১৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে অবচয় খরচ ক্যালকুলেশন করলে এখন জাহাজ দুটির অ্যাসেট ভ্যালু দাঁড়ায় ১৬ কোটি। কিন্তু জাহাজ দুটি বিক্রি করে আমরা এখন পাচ্ছি প্রায় ৫০ কোটি টাকা।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা