চট্টগ্রাম ওয়াসা
আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ ১৩:০৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া হতো বিলের টাকা, অনলাইন সিস্টেমে সেই বিল জমাও দেখানো হতো। তবে ওয়াসার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তা জমা না দিয়ে নিজেদের পকেটে ভরে ফেলত একটি চক্র। এভাবেই ২০১৯ সাল থেকে চট্টগ্রাম ওয়াসার বিল ‘সিস্টেম’ করে যাচ্ছিল সিস্টেম অ্যানালিস্ট চক্র। চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্র বলছে, ওয়াসার সিস্টেম অ্যানালিস্ট শফিকুল বাশার ও তার স্ত্রী লুৎফি জাহান এই চক্রের হোতা। এদের মধ্যে স্বামী বর্তমানে বিদেশে। অন্যদিকে এ ঘটনায় থানায় করা অভিযোগের বাদী হলেন তার স্ত্রী লুৎফি জাহান। ধারণা করা হচ্ছে, অপকর্মের হোতাদের রক্ষা করার একটি প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে এই অনিয়মের মাধ্যমে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে ওয়াসা। এই অনিয়মে জড়িত রাজস্ব শাখার দুই ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে পুলিশে দিয়েছে ওয়াসা। তারা দুজনই সিস্টেম অ্যানালিস্ট শফিকুল বাশারের অধীনে কাজ করেন। আর বাশার তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্য একটি প্রকল্পের দুর্নীতি তদন্তের মধ্যে ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই পাড়ি জমিয়েছেন দুবাইয়ে।
ওয়াসার বিলের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আটক আজমীর হোসেন ও মিঠুন দাশকে চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এই দুজনের বিরুদ্ধে ওয়াসার কম্পিউটার প্রোগ্রামার লুৎফি জাহান আর্থিক অনিয়মের একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ হলো তারা গ্রাহকের টাকা তুলে তা ব্যাংকে ওয়াসার হিসাবে জমা দেননি। অথচ ওয়াসার কম্পিউটার সিস্টেমে তা জমা দেখাত। এতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন জড়িত থাকার কথা অভিযোগে বলা হয়েছে।’
সূত্র জানায়, মূলত সিস্টেম অ্যানালিস্ট শফিকুল বাশারই বিলের টাকা গায়েবে এই চক্রের নেতৃত্ব দিয়েছেন। লুৎফি জাহান শফিকুল বাশারের স্ত্রী। স্বামীর অধীনে প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করতেন তিনি। ওয়াসার সাবেক এমডির আত্মীয় পরিচয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে চক্রটি পরিচালনা করতেন।
মূলত ওয়াসার কিছু বড় গ্রাহক আছেন, যাদের ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিল হয়ে থাকে। তারা এসব বিল নগদ অর্থে পরিশোধ করে থাকেন। আর সেই অর্থ সংগ্রহের পর ওয়াসার কর্মীরা ব্যাংকে জমা দিতেন না। তবে কম্পিউটার সিস্টেমে এই বিল জমা দেওয়া দেখানো হতো। ফলে গ্রাহকের মোবাইলে টাকা জমা দেওয়ার এসএমএস যেত। ফলে গ্রাহক কিংবা ওয়াসা বিষয়টি টের পেত না।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার বর্তমান এমডি মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে মাত্রই পুলিশের তদন্ত শুরু হলো। তাই বিষয়টি নিয়ে এখনই কথা বলতে চাই না। পুলিশের তদন্তে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই।’
এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ওয়াসার তৎকালীন এমডি একেএম ফজলুল্লাহর নানা অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তদন্ত দলটি ৭ সেপ্টেম্বর ওয়াসায় আসে। সেদিন তারা ৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান স্মার্টমিটার প্রকল্পের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল বাশারের কাছ থেকে। ওই তদন্তের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ কাউকে বুঝিয়ে না দিয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করেই দুবাই চলে যান তিনি। এখনও দেশের বাইরে আছেন ওয়াসার এই কর্মকর্তা।