কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ১৭:০৪ পিএম
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৫ ১৭:০৬ পিএম
কক্সবাজারে টেকনাফের খারাংখালী স্টেশনে যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে হামলা ও লুটপাট চালিয়ে এক ব্যবসায়িকে অপহরণ চেষ্টার ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও অপর দুইজন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) রাতে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখালী স্টেশনে এ ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনায় আহতরা হলেন- টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মহেশখালীয়া পাড়ার মৃত ফকির মোহাম্মদের ছেলে হাবিব উল্লাহ ও তার ভাই রহমত উল্লাহ, ছেলে আয়াজ উদ্দিন এবং রহমত উল্লাহ’র স্ত্রী মায়মুনা আক্তার।
এদের মধ্যে হাবিব উল্লাহ ও রহমত উল্লাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও আহত অপর দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনায় আহত রহমত উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার রাতে এশার নামাজের পর খারাংখালী স্টেশনে স্থানীয় ব্যবসায়িদের সঞ্চয় সমিতির সদস্যদের লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এবারের লটারির ড্র জয়ী হন ব্যবসায়ি রহমত উল্লাহ। স্থানীয় ফার্মেসি ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের দোকান থেকে লটারিতে প্রাপ্ত টাকা নিয়ে তিনি নিজের মালিকাধীন গ্যারেজে যাচ্ছিলেন। এ সময় খারাংখালী এলাকার শেখ শাহ আলম ও জুবায়ের আহমদের নেতৃত্বে ১০/১২ জন দূর্বৃত্ত রহমত উল্লাহকে পথে আটকে মারধর শুরু করে। পরে তার পকেটে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
তিনি আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে রহমত উল্লাহ’র স্বজনরা ঘটনাস্থলে এলে তাদেরও লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে দূর্বৃত্তরা রহমত উল্লাহসহ স্বজনদের গ্যারেজের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিল। বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা দ্বিতীয় দফায় আবারও হামলা চালায়। এতে তিনিসহ চারজন গুরুতর আহত হন। হামলার সময় দুর্বৃত্তরা তার স্ত্রী মায়মুনা আক্তারের গলা, হাত ও কানের স্বর্ণালংকার এবং ভাইপো আয়াজ উদ্দিনের স্মার্ট ফোন লুট করে নিয়ে যায়।’
হামলার এক পর্যায়ে রহমত উল্লাহকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে পাহাড়ি এলাকার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালালে দুর্বৃত্তরা স্থানীয়দের প্রতিরোধের পড়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী রহমত উল্লাহ’র।
তিনি জানান, স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসক রহমত উল্লাহ ও হাবিব উল্লাহ’র অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
তিনি জানান, শেখ শাহ আলম ও জুবায়ের আহমদ আপন ভাই। শাহ আলম যুবলীগের সহ সভাপতি। দুই জনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, অপরহণসহ নানা অপরাধে অনেক মামলা রয়েছে। এরা চিহ্নিত সন্ত্রাসীও।
এ ব্যাপারে শেখ শাহ আলম ও জুবায়ের আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে খারাংখালী স্টেশনে রহমত উল্লাহ নামের এক ব্যবসায়ীসহ তার কয়েকজন স্বজনের উপর হামলার ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। ওই সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না। ঘটনার ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত অবগত নন। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ঘটনার ব্যাপারে অবহিত নন জানিয়ে বলেন, ‘ঘটনায় ভুক্তভোগী লোকজন লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে সত্যতা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।’