আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:১২ পিএম
আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:১৮ পিএম
খননের প্রতিশ্রুতির জালে আটকে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মৃতপ্রায় কালন্দিতে শুরু হয়েছে প্রাণ ফেরানোর কাজ। এবারের বর্ষাতেই এ খালে বইবে জলধারাÑ এমনটাই আশা স্থানীয় বাসিন্দাসহ প্রকৃতিপ্রেমীদের। কালন্দি খালে জলধারা বওয়া মানে একদিকে কৃষকের স্বস্তি ও অন্যদিকে এলাকার জলপ্রবাহে গতি বাড়া।
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা সীমান্ত পার হয়ে আখাউড়া উপজেলার স্থলবন্দর, গাজীরবাজার, নারায়ণপুর বাইপাস মোড়, পৌর শহরের সড়ক বাজার ও বড় বাজার বিদ্যুৎ অফিসের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তিতাস নদীতে মিলিত হয়েছে কালন্দি খাল। ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার পানিও এই খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়। একসময়ের খরস্রোতা কালন্দি খাল দখল আর দূষণে এখন মৃতপ্রায়। আখাউড়া প্রকৃতি ও পরিবেশ ক্লাব নামে একটি সংগঠনের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কালন্দি খালটি দখল ও দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নূরপুর সেতু থেকে থানাসংলগ্ন সেতু পর্যন্ত ১ হাজার ৫১০ মিটার খালের খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খালের প্রশস্ত হবে ১০ ফুট। জায়গার অবস্থা বুঝে পাঁচ থেকে ছয় ফুট গভীর করে খালটি খনন করা হবে। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় প্রায় ২৭ লাখ টাকা। এ বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাসহ পরিবেশকর্মীরা বলছে, কালন্দি খাল আখাউড়া স্থলবন্দর থেকে শুরু হয়ে পৌর এলাকার সড়ক বাজার হয়ে বড়বাজার বিদ্যুৎ অফিসের পাশ দিয়ে তিতাস নদীতে গিয়ে মিলেছে। তবে খালের দুই কিলোমিটারের বেশি অংশ পানি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। বিশেষ করে, উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে থেকে খালটির অবস্থা একেবারেই খারাপ। কিছু অংশে গত কয়েক বছর ধরে পানিই দেখা যায় না। আর পানিপ্রবাহ না থাকায় সড়ক বাজার এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। চলমান অংশটুকুর কাজ শেষে বাকি অংশেরও কাজ করা হবে বলে আশা করছে তারা।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, আখাউড়া-আগরতলা সড়কের পাশে পৌরসভার নারায়ণপুর এলাকায় খাল খননের কাজ চলছে। প্রায় ৩০০ মিটারের মতো অংশ ইতোমধ্যেই খনন করা হয়েছে। সেখানে পানি টলমল করছে। তবে খালের ওপর অতিরিক্ত হারে থাকা সেতু ও দখল হয়ে যাওয়া কিছু জায়গা কাজের ব্যাঘাত ঘটাবে বলে জানান খননকাজের সংশ্লিষ্টরা।
পরিবেশকর্মীরা বলছেন, দখল-দূষণের কারণে এ খালেরই পানিপ্রবাহ ঠিক নেই। প্রভাবশালীদের দখলে বিলীন হয়েছে খালের অনেক অংশ। তাই পানি সরে যাওয়ার পথ রুদ্ধ হওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যার কবলে পড়ে বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
আখাউড়া প্রকৃতি ও পরিবেশ ক্লাবের সদস্য সৈকত আলী বলেন, ‘ছোটবেলায় দেখেছি এই খাল দিয়ে নৌকা চলেছে। কিন্তু আস্তে আস্তে এটি দখলের কারণে মরা খালে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে খালটি দখলমুক্ত করে খননের দাবি জানিয়ে আসছি। স্বাধীনতার দীর্ঘ পাঁচ দশক পর খালটি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ায় খুশি। এই খালের বাকি অংশ খনন করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিবেশ উপদেষ্টা ও জেলা প্রশাসকের কাছে গণস্বাক্ষরসহ একটি আবেদনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
কলেজপাড়ার বাসিন্দা মো. আইনুল হোসেন বলেন, ‘কালন্দি খালটির সঙ্গে আখাউড়াবাসীর ঐতিহ্য আর আবেগ জড়িয়ে আছে। কিন্তু দীর্ঘদিন খালটি খনন না হওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। খালের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রুত খনন করার প্রয়োজন ছিল, যা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এতে করে প্রাণ ফিরবে কালন্দিতে।’
ইউএনও গাজালা পারভীন রুহি বলেন, ‘পাউবো খাল খননের কাজ শুরু করেছে। এই কাজের পর বাকি ৭০০ মিটার অংশের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুরো অংশের কাজ হলে পানিপ্রবাহ বাড়বে। এতে জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যার সমাধান হবে।’