সিলেট অফিস
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:৪২ পিএম
ওষুধের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক কর কমাতে সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। তিনি বলেছেন, ওষুধে যে ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে, সেটি কমানো হবে বলে আশা করছি। অর্থ উপদেষ্টা এগুলো কনসিডার করবেন। বিগত সরকারের অনেক জায়গাতে বকেয়া রয়ে গেছে। এসব বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ওষুধের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক-কর কমাতে সুপারিশ করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল ও কলেজের চিকিৎসক এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, হাসপাতালের পরিচালক, উপপরিচালকসহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।
উপদেষ্টা বলেন, ‘যিনি অর্থ উপদেষ্টা, উনি তো পুরো বাংলাদেশের আর্থিক বিষয়টা দেখেন। ওনার অবস্থাটা দেখেন, আমরা যখন দায়িত্ব নিলাম টাকা-পয়সা, ডলারের যথেষ্ট সংকট ছিল। সার কিনতে গিয়ে দেখলাম, আমাদের কাছে সেই পরিমাণ যথেষ্ট ডলার নেই, যা দিয়ে আমরা সার কিনতে পারি। তার মধ্যে আগের সরকারের অনেক টাকা কাতার ও সৌদি আরবে রয়ে গিয়েছিল, যেগুলো পরিশোধ হয়নি। তখন আমাদের কম পরিমাণ সার কিনে আগের টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। অর্থাৎ অবস্থা বুঝেই তো ব্যবস্থা করতে হয়েছে।’
সংস্কার কমিটির প্রতিবেদনের পর দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিগত বছরগুলোতে দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে অনেক রকমের দুর্নীতির চিত্র আমরা দেখছি। যেমন সিলেটের মধ্যেই দেখেন, এখানে দুর্নীতি হয়েছে কি না, সেটি বলব না, কিন্তু কোনো প্ল্যান হয়নি। একটি বিল্ডিং বানালাম (জেলা হাসপাতাল), সে বিল্ডিংয়ের সঙ্গে তো আমার ম্যানপাওয়ার এবং বিল্ডিং দুটি একযোগে হতে হবে। ওইটা না হলে কী করে হাসপাতালটা চালু করব। এ রকম ময়মনসিংহে ২২টি বিল্ডিং হয়েছে, কিন্তু হাসপাতাল হয়নি। তবে কেন আমি বিল্ডিংটা বানালাম, কোনো যন্ত্রপাতি নেই, কোনো ম্যানপাওয়ার নেই। মানিকগঞ্জে দুটি মেশিন কেনা হয়েছিল, এমআরআই মেশিন। এমআরআই মেশিন একটা জন্ম থেকেই ওইটা গরম হয়ে যায়, চলে না। এগুলো কেনার সময়ই গন্ডগোল হয়েছে। যে সিস্টেমে দুর্নীতি করাকে নাকচ করে দিবে, সে রকম সিস্টেম ডেভেলপ করতে হবে আমাদের।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার নিয়ে কমিশন কি কি প্রস্তাব দেবে এখনও জানি না। তবে যতটুকু দেবে, আমাদের তরফ থেকে তাদের বলেছিলাম, কিছু স্বল্পমেয়াদি প্রস্তাব দিতে, যেগুলো আমরা করে ফেলতে পারি। কারণ আমাদের সময়টা তো বেশি না। ডিসেম্বর নাগাদ নির্বাচনের কথা আছে অথবা আরও কিছু সংস্কার করতে যদি বাধ্য হয়, তাহলে সেটা জুনে।’