ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:৩৩ পিএম
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:১৩ পিএম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কুকুরের কামড়ে শিশু ও বৃদ্ধাসহ ২৫ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ৩টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কামড়ের শিকার হন তারা। আহতদের মধ্যে উপজেলা শিক্ষা প্রকৌশলী রেজাউল করিমও (৩৩) রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামে একটি কুকুর কামড়ানো শুরু করে। পর্যায়ক্রমে শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভুপুর, শহরের স্টেডিয়ামপাড়া মেরাতলী এলাকা, চণ্ডিবের, ভৈরবপুর উত্তরপাড়া গাছতলাঘাট, ভৈরবপুর, পঞ্চবটি ও উপজেলা পরিষদের সামনে মধ্যরাত পর্যন্ত ২৫ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়।
আজহার মিয়া নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘চণ্ডিবের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটে স্বপন মিয়া, হাসপাতালের ভেতর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন কর্মচারীর মা এবং হাসপাতাল চত্বরে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা একজন মুসল্লিকে কুকুরটি কামড় দেয়। আমি কোনো রকমে রক্ষা পাই।’
আহতের মধ্যে খোকন মিয়া নামের একজন বলেন, ‘আমি স্টেডিয়ামপাড়ার একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলাম। হঠাৎ একটি কুকুর বেশ কয়েকজনসহ আমাকে কামড় দেয়। পরে আমরা দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিই।’ আক্তার বানু নামের এক নারী বলেন, ‘আমি হাসপাতাল কোয়ার্টারে আমার বাসার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ একটি কুকুর এসে কামড় দেয়। আমি এখনও আতঙ্কে আছি।’
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহম্মদ বলেন, ‘পাগলা কুকুরের কামড়ে গত শুক্রবার ১৩ জন এবং আজ (শনিবার) দুজন চিকিৎসা নিয়েছে। কুকুরটি শনাক্ত করতে পারলে বোঝা যাবে সেটি হাইড্রোফোবিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে কি না। কুকুরটি যদি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়, তবে দ্রুত ভ্যাকসিন দিতে হবে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শবনম শারমিন বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরেছি। খোঁজখবর নিচ্ছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি কুকুরটির পাগল হওয়ার কারণ নিশ্চিত করে, তাহলে কুকুরটি দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’