খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১৯:২৩ পিএম
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১৯:৫৮ পিএম
নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করতে ২০১২ সালে খুলনাসহ আটটি বিভাগীয় শহরে নভোথিয়েটার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থান নির্ধারণসংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি একনেকে অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। ইতোমধ্যে জমি হস্তান্তর ও দরপত্র আহ্বানের কিছু কাজ সম্পন্ন করে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের সময়ে এসে প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে পিছু হটছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে খুলনার সাধারণ মানুষ।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে নভোথিয়েটার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল ও রংপুরে নভোথিয়েটারের কাজ শুরু হলেও খুলনা নভোথিয়েটারের জন্য জমি খুঁজতেই সময় গেছে ১০ বছর। ২০২২ সালে নগরীর সিঅ্যান্ডবি কলোনির ১০ একর জমিতে নভোথিয়েটার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৫৫৩ কোটি টাকা। গত বছর ২৩ এপ্রিল নভোথিয়েটার নির্মাণের জন্য সিঅ্যান্ডবি কলোনির ৮ দশমিক ৩৫১ একর জমি নভোথিয়েটার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে গণপূর্ত বিভাগ। শুরুতে এর নাম ‘বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার’ থাকলেও পরে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।
খুলনা গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ষাটের দশকে তৈরি খুলনা সিঅ্যান্ডবি কলোনি নিয়ে নতুন মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। এর আওতায় পুরোনো ভবনগুলো ভেঙে ফেলে সেখানে বহুতল আধুনিক ভবন নির্মাণ হবে। থাকবে খেলার মাঠ, পার্ক। ইতোমধ্যে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে পরিত্যক্ত ১৩টি ভবন ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু নভোথিয়েটার নির্মাণের জন্য দুর্নীতির মাধ্যমে ১৩টি ভবন ভেঙে ফেলা এবং খেলার মাঠ দখল করা হচ্ছে এবং নভোথিয়েটার হলে আবাসিক এলাকার পরিবেশ বিঘ্নিত হবে বলে প্রচারণা চালানো হয়। এতেই স্থানীয়রা বিভ্রান্ত হয়ে প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়।
নগরবাসী একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, নগরীর সিঅ্যান্ডবি কলোনি এলাকায় নভোথিয়েটারটি নির্মাণের কথা ছিল। প্রকল্প এলাকায় বর্তমানে একটি মাঠ রয়েছে। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিষয়টি নিয়ে ইস্যু তৈরি করে প্রকল্প সম্পর্কে নানা রকম মিথ্যা তথ্য দিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগ খুলনা-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘গণপূর্তের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পরিত্যক্ত ভবন ভাঙা হচ্ছে। আরও কিছু ভবন ভাঙা হবে। এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে নভোথিয়েটার প্রকল্প অনুমোদনের ৩-৪ বছর আগে থেকে। এসবের সঙ্গে নভোথিয়েটারের সম্পর্ক নেই।’
নভোথিয়েটার নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, ‘নগরীর গুটিকয়েক মানুষের হীনস্বার্থ ও নির্বুদ্ধিতায় পুরো বিভাগের মানুষ বঞ্চিত হতে পারে না। নভোথিয়েটারের কাজ দ্রুত শুরুর দাবিতে দ্রুত আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’