নাচোলে ডাবল মার্ডার
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:৫৯ পিএম
আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২৫ ২২:১৩ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় আলোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি শাহীন রেজা ফল কাটার ছুরি দিয়ে দুজনকে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার অভিযানে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার দাবি করেছেন, শাহীনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে জানানÑ রাতের বেলায় তিনি একাই আপেল কাটার ছুরি দিয়ে দুজনকে হত্যা ও চারজনকে গুরুতর জখম করেন। একই কথা শাহীন ১৬৪ ধারায় আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার শাহীন রেজা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার বাহির মল্লিকপুরের তোফজুল হকের ছেলে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হয়েছেন মামলার আরেক আসামি আব্দুস সামাদ (৩০)। তিনি একই এলাকার আতাউর রহমানের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার রাতে ঢাকার সাভার থেকে প্রধান আসামি শাহীন রেজা ও ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে আসামি আব্দুস সামাদকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে শাহীন রেজার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।’
পুলিশ সুপার রেজাউল করিম আরও বলেন, ‘গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে স্থানীয় একটি ক্লাবের আয়োজনে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে আসামি শাহীনের ভাতিজার সঙ্গে হতাহতদের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে শাহীন ঘটনাস্থলে যান এবং বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তার কাছে থাকা আপেল কাটার ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। এতেই দুজন নিহত ও চারজন আহত হয়।’
আলোচিত হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক নয়Ñ উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, ‘একটি পক্ষ ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রূপ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু হতাহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, এটি রাজনৈতিক কোনো ঘটনা নয়। এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও তদন্ত করা হবে।’
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার মল্লিকপুরে ছুরিকাঘাতে নিহত হন মাসুদ রানা ও রায়হান আলী। এতে গুরুতর আহত হয় চারজন। নিহতদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মী দাবি করে আওয়ামী লীগের ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজে দাবি করা হয়, ‘জয় বাংলা স্লোগান’ লেখার কারণে হত্যা করা হয়েছে তাদের। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরের দিন নিহত মাসুদ রানার পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।