× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সড়ক যেন মরণফাঁদ

গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৫ ১১:৩০ এএম

একে তো সংকুচিত সড়ক। ভারী যানবাহনের একটি অপরটিকে অতিক্রম করা কষ্টকর। তার ওপর রয়েছে ব্যাটারিচালিত অবৈধ যান চলাচল। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। সম্প্রতি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে। প্রবা ফটো

একে তো সংকুচিত সড়ক। ভারী যানবাহনের একটি অপরটিকে অতিক্রম করা কষ্টকর। তার ওপর রয়েছে ব্যাটারিচালিত অবৈধ যান চলাচল। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। সম্প্রতি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে। প্রবা ফটো

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশালের প্রবেশদ্বার গৌরনদীর ভূরঘাটা হতে উজিরপুরের ইচলাদী পর্যন্ত সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সংকুচিত সড়ক, ফুটপাতে যত্রতত্র দোকানপাট, বেপরোয়া গতির যান চলাচল, বরযাত্রী লাইট ব্যবহার, ব্যাটারিচালিত অবৈধ যান চলাচল ও অদক্ষ চালকের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে এ সড়ক ব্যবহারকারীরা। 

হাইওয়ে পুলিশের তথ্য মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত মহাসড়কের গৌরনদী থেকে উজিরপুরের ইচলাদী এলাকায় ৮১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০৫ জন নিহত ও ২২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে কমপক্ষে ৫০ জন পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। দুর্ঘটনা রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী। 

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান বলেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মহাসড়কের গৌরনদী থেকে ইচলাদী এলাকায় ৮১টি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১০৫ জন নিহত ও ২২০ জন আহত হয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেকে অবহিত করে দুর্ঘটনারোধে ৬টিসহ বেশ কিছু সুপারিশ করেছি। এসব সমস্যার সমাধান করা না হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। 

তিনি আরও বলেন, মহাসড়কের গৌরনদী হতে ইচলাদী পর্যন্ত সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হচ্ছে গৌরনদীর বার্থী, টরকী, গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড, আশোকাঠি, মাহিলাড়া, বাটাজোর, উজিরপুর মোড়াকাঠি, সানুহার, জয়শ্রী ও ইচলাদী। এসব এলাকায় তীব্র জানজটের সৃষ্টি হয়। 

গত ২৯ ডিসেম্বর বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোরের বাইচখোলা নামক স্থানে যাত্রীবাহী দুটি বাস ও তৈলবাহী লরির ত্রিমুখী সংঘর্ষে একজন নিহত ও কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের দুপাশে ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর মহাসড়কের কটকস্থল নামক এলাকার আরিফ ফিলিং স্টেশনের সামনে বরিশালগামী যাত্রীবাহী লাবিবা পরিবহনের ধাক্কায় পথচারী মফিজুল ইসলাম (৭৫) বৃদ্ধ পথচারী নিহত হন। গত নভেম্বর মাসে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল আরিফ ফিলিং স্টেশন ও উজিরপুর উপজেলার মুন্ডপাশা এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছে। বাসযাত্রী নুসরাত জাহান (৩২) অভিযোগ করে বলেন, চলন্ত অবস্থায় বাসচালক মোবাইলে কথা বলছিলেন। বাসযাত্রীরা চালককে কথা বলতে নিষেধ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে গৌরনদী আরিফ ফিলিং স্টেশন এলাকায় গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। পরবর্তী সময়ে বেপরোয়া গাড়ি চালাতে থাকলে কিছুক্ষণের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের একটি ভ্যানকে ধাক্কা দিয়ে দোকান ভেঙে ডোবায় পড়ে যায়। 

সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকায়। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের বামরাইল সানুহারের মাঝখানে বামরাইল এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেহগনি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ঘটনাস্থলেই ১০ জন ও হাসপাতালে একজনসহ ১১ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ভাণ্ডারিয়াগামী নৈশকোচ যমুনা পরিবহনের চালক ঘুমিয়ে পড়লে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পূর্ব পাশে মেহগনি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়। 

দুর্ঘটনায় নিহত একজনের স্বজন ফারুক হোসেন মোল্লা বলেন, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে প্রতিনিয়ত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, অথচ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা