× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ব্যাঙের ছাতার মতো রোগ নির্ণয় কেন্দ্র

আমানত উল্যাহ, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৫ ১১:১১ এএম

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার, যার বেশিরভাগই মানহীন এবং অবৈধ।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার, যার বেশিরভাগই মানহীন এবং অবৈধ।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার, যার বেশিরভাগই মানহীন এবং অবৈধ। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একশ্রেণির অসাধু প্রভাবশালী। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নাকের ডগায় এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের মনে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদারকি ও মানহীন অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি স্থানীয়দের। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমলনগর উপজেলায় মোট ১৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেই রয়েছে আটটি। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই লাইসেন্সবিহীন। নেই ভালো মানের চিকিৎসক, দক্ষ টেকনিশিয়ান ও আধুনিক যন্ত্রপাতি। স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স, শ্রম অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেই। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ নীরব থাকায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্যসেবার নামে কমলনগরে চলছে এক প্রতারণার ফাঁদ। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকরা রোগ নির্ণয়ের নামে গ্রামের দরিদ্র ও সহজ সরল মানুষকে জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। তারা ওপরমহলকে খুশি রেখে লাইসেন্স ছাড়াই রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কিছু কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। 

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন বা আয়কর প্রত্যয়নপত্র, ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, শ্রম অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, নারকোটিক পারমিট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চুক্তিপত্রসহ বেশ কিছু কাগজপত্র ও অবকাঠামোগত বিষয় থাকতে হয়। এ ছাড়া একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অন্তত একজন টেকনোলজিস্ট ও দুজন টেকনিশিয়ান থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে কমলনগর উপজেলায় এসব কিছুই নেই। শুধু একটি ঘর ভাড়া নিয়ে সাইনবোর্ড লাগিয়ে সাধারণ মানের যন্ত্রপাতি ও অদক্ষ লোকজন বসিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলায় বেশিরভাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেই কোনো মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। নামমাত্র টেকনিশিয়ান দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকরা। কিছু কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ল্যাব পিয়ন, আয়া, বাবুর্চি দিয়ে এক্সরে, ইসিজি, রক্ত সংগ্রহ এবং টেকনিশিয়ান দিয়ে প্যাথলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, সেরোলজি ও হরমোনের কাজ করার, যাদের নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। 

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গড়ে ওঠা আটটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে হাই কেয়ার নামের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেই রেডিও গ্রাফার। ন্যূনতম প্রশিক্ষণ নেই এমন লোক দিয়ে এক্সরেসহ নানা জঠিল রোগের চিকিৎসা করানো হচ্ছে। 

অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সোহেল রানা সরকারি হাসপাতালে ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করে হাই কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের মানহীন প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখেন। এতে হাসপাতালে আসা সেবাপ্রার্থীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ। 

এ ব্যাপারে ডা. সোহেল রানা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমি তো হাই কেয়ারের মালিক নই। হাই কেয়ার কোনো অনিয়ম করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আপনারা লেখেন। আমার কোনো অসুবিধা নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুইজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, ডা. সোহেল রানার মতো ব্যক্তি হাই কেয়ারের মতো বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানে বসা নিয়ে হাসপাতালের ভেতরেও নানা সমালোচনা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, উপজেলার করইতলা বাজারে হাই কেয়ার, লাইফ লাইন, নিউ উপকূল, ইনসাফ, গাইনি কেয়ার, দেশ মা মাটি, উপকূল; ফজুমিয়ারহাট বাজারে গ্রীন লাইফ, নিরাময়, মা ডিজিটাল এবং করুনানগর বাজারে রয়েছে আযাদ ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এ ছাড়া হাজিরহাট বাজারে নিউ মেঘনা, বিসমিল্লাহ-১, বিসমিল্লাহ-২ সহ এ উপজেলায় মোট ১৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে নিউ মেঘনা ও বিসমিল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনো অনুমোদন নেই। বাকিগুলোর অনুমোদন থাকলেও অধিকাংশই মেয়াদ উত্তীর্ণ লাইসেন্স দিয়ে কোনোরকম জোড়াতালি দিয়ে চিকিৎসা সেবার মত গুরুত্বপূর্ণ এ সেক্টরে কাজ চালাচ্ছে। এ জন্য স্বাস্থ্য প্রশাসনের অবহেলা আর অবৈধ লেনদেনকে দায়ী করছে স্থানীয় সচেতন মহল।

বিসমিল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সব নীতিমালা মেনেই ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করছি।’

লক্ষ্মীপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান বলেন, ‘কমলনগর উপজেলার ১৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে মাত্র দুটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলোকে পরিবেশ অধিদপ্তর কোনো ছাড়পত্র দেয়নি।’

শ্রম অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক প্রকৌশলী শরীফ আহাম্মেদ আজাদ বলেন, ‘এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অধীনে থাকা শ্রমিকের স্বার্থ মূলত আমরা দেখাশুনা করি।’ অন্য অভিযোগ নিয়ে তিনি সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. কাজী একরামুল হক বলেন, রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ রাখার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা রয়েছে। ‘ম্যানেজ’ করে চলার বিষটি সত্য নয়। যারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আহাম্মদ কবীর বলেন, এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার জন্য আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে তালিকা পাঠিয়েছি। ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা