নিয়ন দুলাল, লালমনিরহাট
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৪:৫৫ পিএম
লালমনিরহাটে শীতের প্রকোপের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠান্ডাজনিত রোগ।
লালমনিরহাট উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলায় শীতের প্রকোপের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠান্ডাজনিত রোগ। গত কয়েকদিনে লালমনিরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এতে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। ঠাণ্ডাজনিত রোগের কারণে গত কয়েকদিনে এই হাসপাতালে ২০০ জনেরও বেশি শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এতে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে আসনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। শিশু ওয়ার্ডের দুইটি ইউনিটে ৪০ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসা নিচ্ছে দুই গুণেরও বেশি রোগী। অন্যদিকে চাপ রয়েছে হাসপাতালের বহির্বিভাগেও। শয্যা না পেয়ে তীব্র ঠাণ্ডায় অনেকেই ওয়ার্ডের মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। রোগীর স্বজনরা জানান, শীতের প্রকোপের সঙ্গে বেড়েছে ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগ। জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ নানান রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের প্রকোপের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগ। হাসপাতালটিতে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি, ও শীতকালীন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বেড়েছে। আক্রান্ত হওয়া শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন তাদের বাবা-মাসহ স্বজনরা।
এদিকে, শিশুদের পাশাপাশি নানা বয়সি নারী-পুরুষও ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এর ফলে হাসপাতালটিতে প্রতিদিন বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্তদের চাপ। তাদের কারও কারও পরিস্থিতি যথেষ্ট জটিল। সচেতনতার অভাবে প্রতি বছরই এমন চিত্র দেখা যায় বলে তাদের মত। এসব রোগ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই।
পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের হাতেমা আক্তার (৩৬) বলেন, আমার এক বছরের ছেলেকে দুই দিন হলো হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। শয্যা না পাওয়ায় বারান্দার মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। ঠাণ্ডার কারণে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, মনে হচ্ছে হাসপাতালে ওষুধের সংকট। তাই বেশি দাম দিয়ে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
শহরের হাঁড়িভাঙ্গা এলাকার তালেব মিয়া (৩৫) জানান, হঠাৎ করে ঠাণ্ডা বেশি পড়ায় তার শিশু সন্তান শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এখন আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ মনে হচ্ছে।
হাসপাতালে শিশু সন্তানকে নিয়ে আসা আরেক অভিভাবক আকলিমা পারভীন (৪২) জানান, ঠাণ্ডার কারণে তার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক বলেছেন নিউমোনিয়া হয়েছে। সেজন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি।
হাসপাতালে নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ড. তপন কুমার বলেন, শীতের কারণে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি হয়ে থাকে। বিশেষ করে বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। যেসব রোগীর অবস্থা খুব জটিল, আমরা শুধু তাদেরকেই ভর্তি করি। এখানে যারা ভর্তি রয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই সর্দি-জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগী। এ ছাড়া অনেকের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও খিঁচুনি রয়েছে। ঠাণ্ডার এই সময়ে বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের রক্ষা করতে হলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি বলেন, এই ঠাণ্ডায় যথাসম্ভব গরম পানি পান করাতে হবে। আর অসুস্থ হলে তাজা ফলমূলের রস, শাকসবজি ও পুষ্টিকর খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে।
লালমনিরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আব্দুল মোকাদ্দেম বলেন, আমরা প্রতি বছরই এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হই। ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা সার্বক্ষণিক চিকিৎসা প্রদান করে চলেছেন। এই সময়টাতে ধুলাবালি বেশি থাকায় যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা দ্রুত আক্রান্ত হয়। রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে।