কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:৩৬ পিএম
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:৫৩ পিএম
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন। প্রবা ফটো
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজনের মৃত্যু এবং পাঁচ শতাধিক বসতঘরসহ নানা স্থাপনা পুড়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে লম্বাশিয়া ক্যাম্প সি ব্লকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিটের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী কর্মিদের দুই ঘণ্টা চেষ্টায় বিকাল পৌনে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু দুজনের নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ-পরিচালক মো. তানহারুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা তদন্ত কাজ চালাচ্ছে।
স্থানীয়দের বরাতে তানহারুল ইসলাম বলেন, দুপুরে উখিয়ার লম্বাশিয়া ১-ওয়েস্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-ব্লকের একটি বসতঘরে আকস্মিক আগুন লেগে যায়। এতে আগুন ক্যাম্পটির আশপাশের বসতঘরসহ অন্যান্য স্থাপনায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প প্রশাসনসহ স্থানীয়দের খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে সেখানে কক্সবাজার ও টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের আরও পাঁচটি ইউনিট যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মিদের পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালায় সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ সদস্যসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর বিকাল পৌনে ৩টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আগুন লাগার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে পাঁচ শতাধিক বসতঘরসহ নানা স্থাপনা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তদন্তকাজ শেষে চূড়ান্ত ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।’
তানহারুল ইসলাম বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা জানতে ফায়ার সার্ভিস কর্মিদের পাশাপাশি পুলিশও কাজ করছে। পুনরায় যাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা কাজ অব্যাহত রেখেছে।