মনিরুজ্জামান বাবলু, চাঁদপুর
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:১৮ এএম
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:৫৬ এএম
চাঁদপুরের মতলব পৌরসভার চরমুকুন্দি এলাকার মতলব-বাবুরহাট খালের ওপর সংযোগ সড়কহীন সেতু। প্রবা ফটো
সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় কোনো কাজেই আসছে না সরকারের ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত গার্ডার ব্রিজ। আর এতে ভোগান্তিতে পড়েছে চাঁদপুরের মতলব পৌরসভার চরমুকুন্দি, শীলমন্দি, ঢাকিরগাঁও, নবকলস, উদ্দমদী, কাজিরবাজার, শোভনকর্দীসহ ১০ গ্রামের প্রায় ২৫-৩০ হাজার মানুষ। স্থানীয়রা এখন নিজ উদ্যোগে সেতুর পাশে তৈরি বাঁশের সাঁকো দিয়ে কোনো রকমে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।
উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগের তথ্যানুযায়ী, চাঁদপুরের মতলব পৌরসভার চরমুকুন্দি এলাকায় মতলব-বাবুরহাট খালের ওপর ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উদ্যোগে ৫০ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট চওড়া সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ। পরে ওই সেতুর নির্মাণকাজ লটারির মাধ্যমে গোলাম মোস্তফা নামে এক ঠিকাদারকে দেওয়া হয়। সেতু নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও তার দুই পাশে সংযোগ সড়কের কাজ না করায় গত সাড়ে তিন বছরেও সেতুটি দিয়ে চলাচল করতে পারেনি স্থানীয় এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন মতলব শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ হাজারও মানুষের চলাচলে সেতুটির প্রয়োজন হলেও দুই পাশের সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে সেতুর পাশে লোকজন নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করা বাঁশের সাঁকোতে যাতায়াত করছে। এই বাঁশের সাঁকোতে চলাচলের সময় বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থী পড়ে আহত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
চরমুকুন্দি এলাকার বাসিন্দা সানাউল্লাহ, জাকির প্রধান, আলাউদ্দিন মিয়াসহ একাধিক এলাকাবাসী জানান, গত ৩-৪ বছর আগে সেতু নির্মাণ করে চলে গেছেন ঠিকাদার। তার পর এক দিনের জন্যও সেতুটি দিয়ে পারাপার হতে পারিনি। সেতু নির্মাণ হয়েছে ঠিক কিন্তু সেতুতে ওঠার ব্যবস্থা করা হয়নি। এই সেতু দিয়ে চলাচলের আশা এখন ছেড়েই দিয়েছি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কামাল হোসেন বলেন, ‘আমার লাইসেন্সে কাজ হলেও বাস্তবে কাজ করছে সোনালি এন্টারপ্রাইজের মালিক গোলাম মোস্তফা। কীভাবে সংযোগ সড়কের কাজ রেখেই জামানতের টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন, তা তিনি আর পিআইও জানেন।’
সোনালি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি আমি ভরাট করে দিয়েছি।’
মতলব দক্ষিণ উপজেলার সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রবিউল ইসলাম খান বলেন, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজটি পৌরসভার করে দেওয়ার কথা ছিল। তারা বালু দিয়েছে, কিন্তু বর্ষার পানিতে তা সরে গেছে।
মতলব দক্ষিণ উপজেলার বর্তমান প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আনোয়ার হোসেন বলেন, সেতুটির জন্য নতুন করে একটি প্রকল্প দিয়ে দিচ্ছি। যেন ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ হয়ে যায়।