কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৮:২৩ পিএম
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৮:২৪ পিএম
কুমিল্লার চান্দিনায় বার্ষিক সমাপনী পরীক্ষা হলে অসুস্থ হয়ে পড়েন ১৫ জন শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঢুকে হামলা চালিয়েছেন অভিভাবকরা। পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ তিন সহকারী শিক্ষককে পিটিয়ে লাঞ্ছিত করেছেন তারা।
রবিবার (৮ ডিসেম্বর) উপজেলা সদরের চান্দিনা ডা. ফিরোজা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষকরা হলেন- বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাদেকুল ইসলাম কিরণ, বাংলা বিভাগের শিক্ষক আবু ইউনুছ, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সাইদুর রহমান সুজন ও ধর্মীয় শিক্ষক মো. ইলিয়াছ।
জানা যায়, রবিবার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সকল শ্রেণির গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষা চলছিল। ৯ নম্বর কক্ষের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। সহপাঠীরাসহ শিক্ষকরা তাকে পৃথক কক্ষে নিয়ে মাথায় ও চোখে মুখে পানি দিয়ে বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই কক্ষের আরও ১৪ জন ছাত্রী একইভাবে অসুস্থতা বোধ করায় তাদেরকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ১১ জনকে বাড়িতে পাঠিয়ে ৪ জনকে ভর্তি করা হয়।
এদিন দুপুর ২টা থেকে দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা শুরু হলে ১৫-২০ জন অভিভাবক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে শিক্ষকদের ওপর হামলা চালান। তারা পুরো বিদ্যালয়ের প্রতিটি পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর গুজব রটিয়ে সকলকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেন। চান্দিনা থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
চান্দিনা ডা. ফিরোজা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সাদেকুর রহমান কিরণ জানান, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের আমরা তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন তারা ‘প্যানিক অ্যাটাকে’ আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে তারা সকলেই সুস্থ আছেন। দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর আমরা কয়েকজন শিক্ষক অফিস কক্ষে পরীক্ষার খাতা গুছানোর সময় ১৫-২০ জন লোক এসে আমাদেরকে মারধর শুরু করেন। এতে চারজন শিক্ষক আহত হন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান জানান, হাসপাতালে আগত অসুস্থ ছাত্রীরা ‘প্যানিক ডিজঅর্ডারে’ আক্রান্ত হয়ে এমনটি ঘটেছে। মূলত এটি কোনো বড় সমস্যা নয়, একজনের দেখাদেখি অন্যরাও আক্রান্ত হয়। তাদের মধ্যে ১১ জনকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪ জনকে এখনও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চান্দিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা জানান, গুজব রটিয়ে কিছু অভিভাবক এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে একজনকে থানায় আনা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।