মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৮:১১ পিএম
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১১ নম্বর মোস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি শেখ রুমেল আহমেদের বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছেন রুমেলের মা শেখ মেহেরুন নেছা এবং তার চাচী শেখ ফুলেছা বেগম।
শনিবার (৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত তিনটার দিকে মোস্তফাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সময় দুই জা আর সিকিউরিটি গার্ড ছাড়া আর কেউ বাড়িতে ছিলেন না।
নিহত শেখ মেহেরুন নেছার ছেলে সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগ নেতা রুমেল আহমেদ ও নিহত শেখ ফুলেছা বেগমের ছেলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা শেখ হেলাল গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামি হিসেবে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার (৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত তিনটার দিকে শহরতলীর মোস্তফাপুর গ্রামে অবস্থিত সাবেক চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা শেখ রুমেল আহমেদের ডুপ্লেক্স বাড়িটির বৈঠকখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহুর্তে আগুন বাড়ির অন্যান্য ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অজ্ঞান অবস্থায় বাড়ির একটি শয়নকক্ষ থেকে শেখ মেহেরুন নেছা বেগম ও শেখ ফুলেছা বেগমকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
সাবেক চেয়ারম্যান শেখ রুমেল আহমেদের মামা মো. মকছুদ মিয়া বলেন, ‘রুমেলের বাড়িতে আমার বয়োবৃদ্ধ বোন (রুমেলের মা শেখ মেহেরুন নেছা) ও তার জাল (জা) শেখ ফুলেছা বেগম বাড়ির একটি কক্ষে থাকতেন। আলাদা অপর একটি কক্ষে থাকতেন বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড। শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সিকিউরিটি গার্ড বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখে তার ঘর থেকে বের হয়ে এলেও আমার বোন ও তার জা বের হতে পারেননি।
তিনি জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভানোর পর ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসক জানান হাসপাতালে নেওয়ার আগেই আমার বোন ও তার জা মারা গেছেন।’
মৌলভীবাজার জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার যীশু তালুকদার বলেন, ‘আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দুই বয়স্ক নারীকে একটি কক্ষে আগুনের ধোঁয়ায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন তাদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।’
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘নিহতদের মরদেহ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আগুনের ঘটনা তদন্তে সিলেট থেকে বিশেষ টিম এসেছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন। একইসাথে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান করছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো (রবিবার বিকাল পর্যন্ত) কেউ কোনো অভিযোগ জানায়নি।’