সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:২৮ পিএম
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:৩১ পিএম
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে ধলেশ্বরী নদীর খাসজমি দখল করে ইটভাটা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর এলাকার এমএইচবি ও এএসএ ইটভাটা দুটি প্রায় শত বিঘা সরকারি খাসজমি দখল করে চলছে। ইটভাটা মালিকরা বলছেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই কার্যক্রম চলছে। এদিকে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইটভাটা দুটির বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর এলাকায় এমএইচবি ও এএসএ ইটভাটা দুটি দীর্ঘদিন ধরে ধলেশ্বরী নদীর খাসজমি দখল করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ভাটা দুটির মালিক ঢাকার হাবিবুর রহমান ও আনোয়ার হোসেন। ইটভাটা দুটির পাশে অল্প কিছু ব্যক্তিমালিকানার জমি থাকলেও অধিকাংশ খাসজমি। অসাধু কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ ইটভাটা পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে আছে। ইটভাটা দুটির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ধল্লা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইটভাটা দুটি পরিদর্শন করেছেন। ধলেশ্বরী নদীর খাসজমি দখল করেই ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। স্যার যেকোনো সময় ইটভাটা দুটির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবেন।
দেলোয়ার হোসেন নামে একজন বলেন, সরকারি খাসজমিতে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ইটভাটা দুটি। প্রশাসন জেনেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের টাকার মাধ্যমে ম্যানেজ করে ইটভাটা দুটি পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ভাটা দুটির বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এমএইচবি ভাটার মালিক হাবিবুর রহমান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ট্রেড লাইসেন্সসহ সরকারি অনুমতি নিয়ে ভাটা পরিচালনা করে আসছি। প্রশাসন কেন অনুমতি দেয়। আপনারা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলুন। আপনাদের কোনো চাওয়া-পাওয়া থাকলে বলেন। এ ছাড়া এএসএ ভাটার মালিক আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোন নম্বর দিতে ভাটায় থাকা দায়িত্বরতরা অপরাগতা প্রকাশ করেছেন।
মানিকগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইউসুফ আলী বলেন, পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা ছাড়পত্র দেই, জমি দখলের বিষয়টি দেখি না। তবে যেহেতু এখন খাসজমি দখলের বিষয়টি আসছে, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিঙ্গাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান সোহাগ বলেন, নদীর খাসজমি দখল করে ইটভাটা নির্মাণের সুযোগ নেই। বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।