বেতাগী (বরগুনা) ও চাঁদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ২২:২৭ পিএম
বরগুনার বেতাগীতে ভাতিজার দায়ের কোপে প্রতিবন্ধী চাচা সুলতান হাওলাদার নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের উত্তর করুণা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা অভিযুক্ত ওহিদুজ্জামানকে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করে। এ ছাড়া চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জমিতে পানি নিষ্কাশনের নালা থেকে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গছে, বেতাগীর উত্তর করুণা ওয়াহিদুজ্জামানের বাড়ির আঙিনায় মিষ্টিআলুর লতা কাটা নিয়ে চাচা সুলতান হাওলাদারের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায় ওহিদুজ্জামান তার হাতে থাকা দা দিয়ে সুলতান হাওলাদারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।
লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জানাজা শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। বেতাগী থানার ওসি ফারুক আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যার ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার বিকালে ওহিদুজ্জামান ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় পার্শ্ববর্তী মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে বেতাগী থানার পুলিশ ওহিদুজ্জামানকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসেন।
নিহত সুলতান হাওলাদারের ছেলে মো. জালাল বলেন, আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সুষ্ঠু বিচার ও হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করছি।
এদিকে গত শুক্রবার বিকালে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন মতলব উত্তর থানার ওসি মো. রবিউল হক। তিনি জানান, উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মুক্তিরকান্দি গ্রামের জমিতে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সুদীপ্ত রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, শুক্রবার কোনো এক সময় ওই নারীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে পানি নিষ্কাশনের ড্রেনে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। সন্ধ্যায় স্থানীয়রা ড্রেনে লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে এসআই আবুল কালাম লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এসআই আবুল কালাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে যে, ওই নারীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের মুখমণ্ডলে ও শরীরে আগুনে পোড়া দাগ রয়েছে।