নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ১২:২২ পিএম
আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:১৩ পিএম
প্রতীকী ছবি
গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর রায়পুরায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুই ইউপি সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও অন্তত ১১ জন। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার চাঁন্দেরকান্দি ইউনিয়নের নজরপুর ও মেথিকান্দা এলাকায় এ ঘটনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। নরসিংদী পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেনÑ রায়পুরার চাঁন্দেরকান্দি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য মানিক মিয়া (৫০) এবং একই ইউনিয়নের সাবেক নারী ইউপি সদস্য কল্পনা বেগম (৪২)। আহতরা হলেনÑ আমির হোসেন (২১), রাব্বি মিয়া (২২), জুয়েল (৩০), সাব্বির (৩৮), টুটুল (৩৫), বাদল ভেন্ডার (৫৫), মারুফ মিয়া (১৫) ও সুফিয়া বেগম (৩৮)। অন্য আহতদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আব্দুল বাসেত মেম্বার এবং যুবলীগ নেতা আবিদ হাসান রুবেল সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ও রায়পুরা আসনের সাবেক এমপি রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজুর সমর্থক। এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এমপি রাজুর সমর্থন না পাওয়ায় এমপির সঙ্গে রুবেলের দূরত্ব তৈরি হয়। এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজুর দুই সমর্থক বাসেত মেম্বার ও তার ভাতিজা রায়পুরা পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হারুন অর রশিদের সঙ্গে যুবলীগ নেতা আবিদ হাসান রুবেলের বিরোধ চলে আসছিল। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়। এরই জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে প্রচারণা চালানোর সময় প্রতিদ্বন্দ্বী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সুমন মিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করে যুবলীগ নেতা আবিদ হাসান রুবেল ও তার সমর্থকরা। এ ঘটনায় রুবেল গা ঢাকা দেন। সম্প্রতি মামলায় জামিন নিয়ে এসে এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালান। এতে প্রতিপক্ষ বাসেত মেম্বার ও রায়পুরা পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হারুন অর রশিদ গ্রুপের সমর্থকরা বাধা দেয়। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সর্বশেষ গতকাল শনিবার ভোরে অস্ত্র গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় বাসেত মেম্বার ও হারুন অর রশিদের সমর্থকরা চাঁন্দেরকান্দি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য মানিক মিয়াকে বশির উদ্দিনের উঠানে পা কেটে ফেলে এবং কুপিয়ে হত্যা করে বলে জানা যায়। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে চাঁন্দেরকান্দির সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য কল্পনা বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগে দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা আবিদ হাসান রুবেলের নামসহ সংবাদ প্রকাশ করায় বাসেত মেম্বারের ভাতিজা দেশ রূপান্তর পত্রিকার রায়পুরা প্রতিনিধি মনিরুজ্জামানকে গুলি করে রুবেল সমর্থকরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মনিরুজ্জামানকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খান নুরউদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, গুলিবিদ্ধ দুজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে এবং আহত অবস্থায় ছয়জন চিকিৎসা নিয়েছে।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ মাহমুদুল কবীর বাসার জানান, নরসিংদীর রায়পুরায় সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
নরসিংদী পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান বলেন, ‘গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র্র করে দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়ান। দুই ইউপি সদস্য নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।’