নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৯:৫৫ এএম
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৯:৫৭ এএম
যে বয়সে কোনো বালাই নাই, সে বয়সের ছেলেদের বড় আয়োজন করে হাতে পুরস্কার আর মাথায় পাগড়ি- এমন পরিবেশ উপস্থিত সকলকে পুলকিত করেছে। শুধু তাই নয়, ২০০ জন কোরআনে হাফেজের এক সাথে মনমুগ্ধকর তেলাওয়াতে বিমোহিত হয় অনুষ্ঠানস্থল। কোরআনে হাফেজ হওয়ার পর এমন স্বীকৃতি পেয়ে তাদের চোখে-মুখে ছিল আনন্দের ঝিলিক।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাতে এমন দৃষ্টিনন্দন আবহটি তৈরি হয় বেগমগঞ্জের চৌমুহনী মদন মোহন হাই স্কুল মাঠে।
জানা যায়, মারকাযুল কুরআন ইন্টারন্যাশানাল মাদরাসার আয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্বিরাত কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার বিকালে শুরু হওয়া এ তিলাওয়াত চলে রাত ১২টা পর্যন্ত। এতে অংশগ্রহণ করেন তানজানিয়ার শায়েখ ক্বারী ঈদী শাবান, মিশরের শায়েখ ড. ক্বারী সালাহ মোহাম্মদ সোলায়মান, শায়েখ ক্বারী মুহাম্মদ ছানাদ আব্দুল হামিদ, আফ্রিকার শায়েখ ক্বারী আহমেদ হিজা এবং বাংলাদেশের শায়েখ ক্বারী নাজমুল হাসান ও শায়খ ক্বারী আব্বাস উদ্দীন। তাদের সুমধুর কণ্ঠের তিলাওয়াত মন্ত্রমুগ্ধ হন শ্রোতা-দর্শকরা।
এই সময় ২০০ হাফেজ ছাত্রদের পাগড়ী ও সনদ প্রদান করেন জামেয়া রশীদিয়া মাদরাসা ফেনী প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আল্লামা মুফতী শহিদুল্লাহ। তারপর ২০০ জন কোরআনে হাফেজের একসাথে মনমুগ্ধকর তেলাওয়াতে বিমোহিত হয় অনুষ্ঠানস্থল। এমন স্বীকৃতি পেয়ে হাফেজদের চোখে-মুখে ছিল আনন্দের ঝিলিক।
সংবর্ধনা পাওয়া হাফেজ আশরাফুল ইসলাম ও হাফেজ মোহাম্মদ মিনহাজ বলেন, ২০০ হাফেজকে একসাথে বিশাল সংবর্ধনা দেওয়া সহজ কিছু নয়। আমরা অনেক খুশি হয়েছি। এত সুন্দর আয়োজন করে মাথায় পাগড়ি আর হাতে সনদ তুলে দেওয়ার দৃশ্য জীবনের প্রথম আনন্দ, যা কখনো ভোলার নয়। সামনে যতদিন বেঁচে থাকব এ সম্মান অক্ষুন্ন রেখে চলার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।
মানযিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মানযিল ইন্সটিটিউটের প্রিন্সিপাল মাওলানা জামাল মাসরুরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ক্বিরাত কনফারেন্সে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নোয়াখালীর সভাপতি মাওলানা নিজাম উদ্দিন, হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শায়েখ ক্বারী আবদুল হক, জামেয়া রশীদিয়া ফেনীর সহকারী পরিচালক মুফতী ফয়জুল্লাহ কাসেমী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান, মারকাজুল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার পরিচালক মুফতি আবু ইউসুফ কাসেমী, হাফেজ কারী মাইনুদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মানযিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মানযিল ইন্সটিটিউটটের প্রিন্সিপাল মাওলানা জামাল মাসরুর বলেন, আমরা কোরআন ও কোরআনের হাফেজদের সম্মানকে জাতির কাছে তুলে ধরতেই কোরআন প্রেমিদের জন্য এমন জমকালো কনফারেন্সের আয়োজনের পরিকল্পন করি। আল্লাহর কালামের মর্মবাণী মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে মারকাজুল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা ও মানযিল ইন্সটিটিউট। যা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা মুফতী শহিদুল্লাহ বলেন, কোরআন মানবতার মুক্তির সনদ। পথহারা মানুষকে আলোর পথ দেখাতে আল্লাহতায়ালা কোরআন নাজিল করেছেন। আজকের অস্থির পৃথিবীতে শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে দিতে হলে আমাদেরকে আবার কোরআনের কাছে ফিরে যেতে হবে। প্রিয় নবী (সা.) এর পদাঙ্ক অনুসরণেই মানবতার মুক্তি ও কল্যাণ।
চৌমুহনী কাছারী বাড়ি জামে মসজিদ খতিব হযরত মাওলানা আবদুল কবিরের সভাপতিত্বে ইয়াছিন হায়দার ও শাহ আইমান জাকির উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে নাশীদ শোনান আহমদ আব্দুল্লাহ, শেখ এনাম ও আবু রায়হানসহ জাতীয় পর্যায়ে সমাদৃত ও দেশের সাড়াজাগানো শিল্পী। ক্বিরাত কনফারেন্সে উলামায়ে ক্বেরাম, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ প্রশাসনিক ও উচ্চ পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি দায়িত্বশীল এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যাক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।