বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:১৩ পিএম
আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:৪৩ পিএম
বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডের দখল নিয়ে বিএনপিপন্থি দুই শ্রমিক সংগঠনের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়াসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে স্ট্যান্ডের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া দিতে দেখা যায়। কিছু সময় পর সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে এলে উভয়পক্ষ অবস্থান ছেড়ে চলে যায়। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গছে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগের নেতাকর্মী ও তাদের সমর্থিত শ্রমিক ইউনিযনের লোকজন বাসস্ট্যান্ড ছেড়ে যায়। তখন কয়েকদিন বাস চলাচল ও টিকিট কাউন্টারগুলো বন্ধ থাকে। দু-তিন দিন পর বিএনপির শ্রমিক দল সমর্থিত একটি পক্ষ বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন করে। তবে কদিন না যেতেই শ্রমিক দলের অন্য একটি পক্ষ একই ইউনিয়নের কমিটি গঠন করে স্ট্যান্ডের দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর থেকেই বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ নিয়ে দুপক্ষ পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে। দুপক্ষই নিজেদেরকে শ্রম অধিদপ্তর ও জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের অনুমোদিত কমিটি দাবি করে।
এক পক্ষের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শামীম খান। অন্য পক্ষে সভাপতি হিসেবে রয়েছেন, আবুল কাশেম ভূঁইয়া সেলিম ওরফে সেলিম ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন শেখ জাহিদুল ইসলাম। এদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং শামীম খান জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। অন্য পক্ষের আবুল কাশেম ভূঁইয়া সেলিম ওরফে সেলিম ভূঁইয়া বাগেরহাট পৌর শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি। শেখ জাহিদুল ইসলামের দলীয় পদপদবি জানা যায়নি।
শামীম খান বলেন, আমাদের কমিটি ফেডারেশন ও শ্রম অধিদপ্তরের অনুমোদন দিয়েছে। আমরা শপথ গ্রহণ করে শ্রমিক ইউনিয়ন পরিচালনা করছিলাম। আবুল কাশেম ভূঁইয়া সেলিমের নেতৃত্বে একটি দল বাসস্ট্যান্ড দখল করেছে। তারা বাসস্ট্যান্ড ভাঙচুর ও লুট করেছে বলেও অভিযোগ করেন এই শ্রমিক নেতা।
বাসস্ট্যান্ড দখল, ভাঙচুর ও লুটপাট বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কাশেম ভূঁইয়া সেলিম বলেন, একটি পক্ষ অবৈধভাবে বাসস্ট্যান্ড ও শ্রমিক ইউনিয়ন দখল করে চাঁদাবাজি করে আসছিল। শ্রম অধিদপ্তর, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন আমাদের কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। আমরা পুলিশ, সেনাবাহিনী ও জেলা বিএনপিকে অবহিত করে বাসস্ট্যান্ড দখলমুক্ত করেছি। আমরা লুট করিনি এবং ভাঙচুরও করা হয়নি।
বাগেরহাট মডেল থানার ওসি সাইদুর রহমান বলেন, আমরা দুই পক্ষকেই সরিয়ে দিয়েছি। কোনো প্রকার বড় বিশৃঙ্খলা হয়নি।