মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৪ ২২:২৫ পিএম
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ৭ নম্বর ফুলতলা ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় অবস্থিত রাজকি চা-বাগানের শ্রমিক শূদ্র ভূঁইয়া প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হয়েছেন। বাগানের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের।
নিহত শূদ্র ভূঁইয়া রাজকি চা-বাগানের ২১ নম্বর শ্রমিক কলোনি লাইনের বাসিন্দা। এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই নিহতের স্ত্রী মনি ভূঁইয়া বাদী হয়ে চার প্রতিবেশীর নামে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় জয়জিৎ চাষা নামের এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জুড়ীর ৭ নম্বর ফুলতলা ইউনিয়নের রাজকি বাগানের কিছু জমির মালিকানা নিয়ে নিহত শূদ্র ভূঁইয়ার সঙ্গে তার প্রতিবেশী চা-শ্রমিক সুরেশ চাষার সঙ্গে বিরোধ চলছিল। বিরোধীয় ওই জমিতে সুরেশ চাষা আমন ধানের চাষ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সুরেশের লোকজন ধান কাটতে গেলে নিহত শূদ্র ভূঁইয়া নিজেকে ওই জমির মালিক দাবি করে ধান কাটতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের বাদানুবাদ হয়। একপর্যায়ে শূদ্র ভূঁইয়া দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সুরেশ চাষার আত্মীয় জয়জিৎ চাষাকে আঘাত করলে তিনি আহত হন। সঙ্গে সঙ্গেই সুরেশের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে শূদ্র ভূঁইয়ার ওপর হামলা চালান। হামলাকারীরা নিহতের দুই হাত, পা ও ঘাড়ের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
খবর পেয়ে জুড়ী থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠান।
রাতে নিহত শূদ্র ভূঁইয়ার স্ত্রী মনি ভূঁইয়া বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে জুড়ী থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জয়জিৎ চাষাকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে জয়জিৎ পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘রাজকি চা-বাগানের কিছু জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার জেলা সদরে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামি জয়জিৎ চাষাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।’