ধোবাউড়া
আনিসুর রহমান, ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ)
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৪ ১০:২৫ এএম
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কালিবাড়ি এলাকায় অবৈধভাবে বালু তোলার পর গাড়ি ভরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রবা ফটো
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় চলছে অবৈধভাবে বালু তোলার মহোৎসব। নেতাই নদীসহ উপজেলার বিভিন্ন খাল ও নদী থেকে তোলা হচ্ছে বালু। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে বেশ কয়েকটি জনপদ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধোবাউড়া উপজেলার ঘোষগাঁও ইউনিয়নে নেতাই নদী থেকে বালু তোলার জন্য সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি বিধি না মেনে অবৈধভাবে বালু তোলায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বালু তোলা বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। তারপরও থেমে নেই বালু তোলা।
সম্প্রতি সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গেলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রাতের অন্ধকারে উপজেলার নেতাই নদীর দক্ষিণ মাইজপাড়া, কলসিন্দুর ঘাটপাড়, রনসিংহপুরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু তুলছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। পরে দিনদুপুরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এলাকার ভেতর দিয়ে তা বহন করা হয় ট্রাকে করে।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা বলেন, প্রশাসন ইজারাঘাট থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করেছে অথচ বিভিন্ন স্থান থেকে কীভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, নেতাই নদী থেকে অবৈধভাবে তোলা বালু ট্রাকে করে অন্যত্র নেওয়া হয় জনপদের ভেতর দিয়ে। ট্রাকগুলো বেপরোয়া চলাচলের কারণে এলাকার রাস্তাঘাট যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত এক মাসে বালুর ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে দুজন নিহত হয়েছে। বালুর ট্রাক এবং লরি বেপরোয়াভাবে চলাচল করায় রাস্তাঘাটে বিদ্যালয়গামী শিশুদের নিয়ে চলাফেরা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৬ নভেম্বর উপজেলার রনসিংহপুর এলাকায় বালুর ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মোশারফ হোসেন নামের এক পথচারী মারা যান। এর আগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার গলইভাঙ্গা রাস্তায় বালুর ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে নিহত হন নূর উদ্দিন নামের আরেক পথচারী। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের বাধা, অভিযান, জেল-জরিমানা কোনোকিছুই থামাতে পারছে না বালুখেকোদের। সড়কে অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের দিয়ে বেপরোয়াভাবে চলছে বালুর গাড়ি।
ধোবাউড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, রাস্তায় বালুর গাড়ির জন্য ভয়ে চলতে হয়, আর যানজট লেগেই থাকে। শিশুদের নিয়ে এসব গাড়ির সামনে পড়লে এক ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
নওশিন নামে এক শিক্ষার্থী জানায়, বালুর গাড়ির জন্য রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় খুবই ভয় করে।
ধোবাউড়া থানার ওসি আল মামুন বলেন, সরকার বালুর ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে দুজনের মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ-সংক্রান্ত মামলা নেওয়া হয়েছে। যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত শারমিন বলেন, সরকারি বিধি না মেনে অবৈধভাবে বালু তোলায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বালু তোলা বন্ধে অনেকবার অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।