তদন্ত প্রতিবেদন
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:২৬ এএম
নাশকতা নয়, দুই এলপিজি ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের পেছনে এলপিজি স্থানান্তরের কাজে নিযুক্ত নাবিকদের অদক্ষতা ও অবহেলা খুঁজে পেয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি। তদন্তে উঠে এসেছে, মাদার ভেসেলের সঙ্গে বি-এলপিজি সোফিয়া ট্যাংকারটি বেঁধে রাখা দড়ি ছিঁড়ে যাওয়ায় গ্যাস স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত হোসপাইপের ওপর চাপ তৈরি হয়। এক একপর্যায়ে হোসপাইপ ছিঁড়ে গিয়ে মাদার ভেসেল ক্যাপ্টেন নিকোলাসের ডেকে আগুন লাগে। পরে সেটি দ্রুত বি-এলপিজি সোফিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্ত কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়। গত বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করে।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের কতুবদিয়া চ্যানেলে দুটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এলপিজিবাহী ‘ক্যাপ্টেন নিকোলাস’ ট্যাংকার থেকে ছোট ট্যাংকার ‘এলপিজি সোফিয়া’তে গ্যাস স্থানান্তর করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে মাদার ভেসেলের সঙ্গে বি-এলপিজি সোফিয়াকে বেঁধে রাখা দড়িটি ছিঁড়ে যায় এবং ট্যাংকারটি উন্মুক্ত অবস্থায় ভাসতে ভাসতে বেশ দূরে চলে যায়। প্রায় ১২ ঘণ্টা আগুন জ্বলার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটা কোনো নাশকতা নয়। নাবিক ও বিএসসির দায়িত্বরত ব্যক্তিদের অদক্ষতা, অসতর্কতা ও অবহেলার কারণে জাহাজে আগুন ধরেছে। জাহাজের রশি ছিঁড়ে গ্যাস পাইপ খোলার পরেও আগুন লাগার আগে অন্তত ৩০ মিনিট সময় পেয়েছিল ক্রুরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার। তবে তাদের গা-ছাড়া ভাবের কারণে সৃষ্ট আগুন ভয়ংকর রূপ নিয়েছিল।
এতে আরও বলা হয়, তীব্র ঢেউয়ে রশি ছিঁড়ে গ্যাস পাইপ খোলার পর স্পার্ক থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। দুটি জাহাজে ৫০ জনের বেশি নাবিক-ক্রু থাকলেও ঘটনার সময় সক্রিয় ছিলেন মাত্র ৬ জন। এ ছাড়া, লাইটার জাহাজ সোফিয়া থেকে একাধিকবার সহায়তা চেয়ে বার্তা পাঠানো হলেও মাদার ভ্যাসেল নিকোলাস তাতে সাড়া দেয়নি বলেও অভিযোগ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর এম ফজলার রহমান বলেন, তদন্তে আমরা নাশকতার কোনো প্রমাণ পাইনি। তদন্তে উঠে এসেছে মাদার ভেসেল ক্যাপ্টেন নিকোলাসের নাবিকদের অদক্ষতা ও অবেহলার কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ফজলার রহমান আরও বলেন, দুই জাহাজ বেঁধে রাখা দড়ি ছিঁড়ে যাওয়ার পর গ্যাস স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত হোসপাইপ ছিঁড়ে গিয়ে মাদার ভেসেল ক্যাপ্টেন নিকোলাসের ডেকে আগুন লাগে। পরে সেটি দ্রুত বি-এলপিজি সোফিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। ১২টি দড়ি ছিঁড়ে যেতে ২৫-৩০ মিনিট সময় লেগেছিল। কিন্তু নাবিকরা কিছু করতে পারেনি। গ্যাস স্থানান্তরের পাইপলাইনও বন্ধ করেনি। এর মানে হলো তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার অভাব ছিল।’