ময়মনসিংহ নগরী
শফিক সরকার, ময়মনসিংহ
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২৪ ১১:৫৬ এএম
ময়মনসিংহ নগরীতে তিন মাস ধরে মশা নিধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরবাসী। বেতনের অজুহাত ও দেখভালের লোক না থাকার সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে মশার ওষুধ ছিটানো থেকে বিরত রয়েছে সিটি করপোরেশন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নগরবাসী।
২০২২ সালের জরিপ অনুযায়ী, ময়মনসিংহ সিটির জনসংখ্যা ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৭২২ জন। ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সিটি করপোরেশনের বিশাল জনগোষ্ঠীকে মশার উপদ্রব থেকে বাঁচাতে ২৪ জন লোক নিয়োগ দেয় করপোরেশন। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশা নিধনে স্প্রে করতেন। একসময় কাউন্সিলরদের তাগিদে স্প্রে ছিটাতে ব্যস্ত সময় পার করতেন। এখন তাদের তাগিদ দেওয়ার লোক নেই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে। আর অন্যদিকে তিন মাস বন্ধ ছিল স্প্রে শ্রমিকদের বেতন। এসব কারণে গত তিন মাস তাদের কার্যক্রম দেখা যায়নি।
নগরবাসী জানায়, নিয়মিত ওষুধ ছিটানো না হওয়ায় নগরীতে বংশবৃদ্ধি করছে মশা। কয়েল ব্যবহার করেও নিস্তার পাওয়া যাচ্ছে না মশা থেকে। নগরীর সানকিপাড়া শেষ মোড়ে ভাড়া বাসায় থাকেন শফিকুল ইসলাম নামে এক ওষুধ কোম্পানির চাকরিজীবী। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মশার ওষুধ স্প্রে না করায় মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। দিনে কিছুটা কম থাকলেও রাতে মশা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কয়েল ব্যবহারেও মশার কামড় থেকে বাঁচা যাচ্ছে না। দ্রুত মশার ওষুধ ছিটানোর দাবি জানাচ্ছি।’
দীর্ঘদিন ধরে মশা নিধনে স্প্রে না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা দীপক মজুমদার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারীদের বেতন ছিল না। তবে এখন তারা বেতন পেয়েছেন। কিন্তু এখন আবার মশা নিধনে স্প্রে করার পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ নেই। এসব কারণে ওষুধ ছিটানোর কাজ কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে এখন আবার শুরু করা হবে।’