চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা
সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৪ ১৪:৫৫ পিএম
মহসীন চৌধুরী রানা
জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আওতাধীন চার উপজেলা ও তিন পৌরসভার আহ্বায়ক কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কমিটিতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুসারীদেরও ঠাঁই করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। আর এর জন্য কৃষক দলের আহ্বায়ক মহসীন চৌধুরী রানাকে দায়ী করছেন সংগঠনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে লিখিতভাবে এসব অভিযোগের কথা জানিয়েছেন তারা।
কৃষক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, কেন্দ্র থেকে গত ১২ সেপ্টেম্বর মহসীন চৌধুরী রানাকে আহ্বায়ক এবং মীর জাকের আহমেদকে সদস্য সচিব করে আট সদস্যের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কৃষক দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এর কিছুদিনের মধ্যেই গত ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আওতাধীন চার উপজেলা (বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী) এবং তিন পৌরসভা (বোয়ালখালী, পটিয়া ও বাঁশখালী) শাখার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ বোয়ালখালী উপজেলা কমিটি ৭১ সদস্য, বোয়ালখালী পৌরসভা কমিটি ৩১ সদস্য, পটিয়া উপজেলা কমিটি ৫১ সদস্য, পটিয়া পৌরসভা কমিটি ৩১ সদস্য এবং চন্দনাইশ উপজেলা কমিটি ৩১ সদস্যের। একই দিনে দুই সদস্যবিশিষ্ট বাঁশখালী উপজেলা কমিটি ও বাঁশখালী পৌরসভা কমিটিও ঘোষণা করা হয়।
এই সাতটি কমিটি ঘোষণার পরপরই সংগঠনের পদপ্রত্যাশী অনেক নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। মূলত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কৃষক দলের আহ্বায়কের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ আনেন তারা। কমিটি ঘোষণার দুদিন পর গত ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী মো. নজরুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘যে সাতটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, তার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নাই। এসব কমিটি করতে গিয়ে কৃষক দলের পদপ্রত্যাশী অনেককে মহসীন চৌধুরী রানার সঙ্গে টাকা লেনদেন করার কথা আমরা জেনেছি। সে তার ইচ্ছেমতো কমিটি দিয়েছে। আহ্বায়ক কমিটির সবার সঙ্গে কোনো আলোচনাও করেনি। ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে কমিটি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব অভিযোগ আমরা কেন্দ্রকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। পাশাপাশি কমিটিগুলো বাতিলের আবেদনও জানিয়েছি।’
এদিকে বাঁশখালী পৌরসভা কৃষক দলের কমিটিতে পদপ্রত্যাশী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কৃষক দলের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ শোয়েব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে থেকে মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি। কিন্তু যখনই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে, তখন সুবিধাবাদী নেতারা এসে টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পর্যন্ত কৃষক দলের কমিটিতে ঠাঁই করে দিচ্ছেন। মহসীন চৌধুরী রানা প্রায় লাখ টাকার বিনিময়ে ফজল কাদেরকে বাঁশখালী উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব এবং শোয়াইবুল ইসলাম চৌধুরীকে বাঁশখালী পৌরসভা কমিটির আহ্বায়ক করেছেন। ফজল কাদের ও শোয়াইবুল ইসলাম চৌধুরীকে আওয়ামী রাজনীতির সমর্থক হিসেবে পরিচিতি। অথচ আমরা যারা ত্যাগী, তাদের ঠাঁই হলো না। কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আমরা এর সুরাহা চাই। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও জোর দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে টাকার বিনিময়ে কমিটি দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মহসিন চৌধুরী রানা। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘যাদের কমিটিতে আনা হয়েছে, তারা সবাই আমাদের আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন। যোগ্যদেরই কমিটিতে আনা হয়েছে।’
আওয়ামী লীগের কর্মীদের কমিটিতে ঠাঁই দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবাইকে আওয়ামী লীগের ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হলে আমরা রাজনীতি করব কীভাবে? যেসব ছবি দেখানো হচ্ছে, তা সুপার এডিট হতে পারে। দেখবেন কিছুদিন পর আমার ছবিও এডিট করে বসানো হচ্ছে। এসব অভিযোগ মিথ্যা।
আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী মো. নজরুল ইসলামসহ অন্যদের সঙ্গে আলোচনা না করে কমিটি ঘোষণা প্রসঙ্গে মহসিন চৌধুরী রানা বলেন, গত তিন মাস তিনি তো কৃষক দলের কোনো অনুষ্ঠানে আসেননি। খবরও নেননি। ওনার সঙ্গে কী আলাপ করব? চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের সম্মতি নিয়েই কমিটি দিয়েছি।’
কৃষক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘সাতটি কমিটি ঘোষণার আগে আমাদের অবগত করা হয়নি। এরই মধ্যে এসব কমিটি নিয়ে কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।