× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মুরাদনগর ৫০ শয্যার হাসপাতাল

চিকিৎসক ও শয্যা সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

এন এ মুরাদ, মুরাদনগর (কুমিল্লা)

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৪ ১৬:৪০ পিএম

কুমিল্লার মুরাদনগর ৫০ শয্যার হাসপাতাল। প্রবা ফটো

কুমিল্লার মুরাদনগর ৫০ শয্যার হাসপাতাল। প্রবা ফটো

চিকিৎসক ও শয্যা সংকটে পড়েছে কুমিল্লার মুরাদনগর ৫০ শয্যার হাসপাতাল। এতে হাসপাতালটিতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রায় সাত লাখ মানুষের ৫০ শয্যার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হওয়ায় রোগীর চাপ থাকে বেশি। প্রতিদিন বহির্বিভাগে রোগী হয় ৬০০ থেকে ৭০০ জন। আর আন্তঃবিভাগে রোগী ভর্তি থাকে ৬০ থেকে ৭০ জন। এ ছাড়া জরুরি বিভাগে দৈনিক গড়ে ৭০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। শয্যা সংকটের কারণে হসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একসময় প্রসূতিদের সিজার হতো না এ হাসপাতালে। এখন প্রতি মাসে স্বাভাবিক ডেলিভারির পাশাপাশি ১০ থেকে ১২টি সিজার করানো হয়। আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগে রোগীর চাপ বাড়লে হাসপাতালে বাড়েনি শয্যা। 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিলে মোট ৩৭ জন চিকিৎসক থাকার কথা। তাদের মধ্যে ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ২৭ জন চিকিৎসা কর্মকর্তা। কিন্তু এ হাসপাতালে সব মিলিয়ে রয়েছেন মাত্র ১৫ জন। এ দিয়েই চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল ও সাতটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। 

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ সারি। পাঁচজন চিকিৎসক বহির্বিভাগে রোগী দেখছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারিতে দাঁড়াতে হচ্ছে রোগীদের। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে অনেকেই মেঝেতে বসে পড়ছেন। এ সময় আব্দুল হক নামের এক রোগী বলেন, জ্বর, মাথা ব্যথা ও কাশির সমস্যা নিয়ে এসেছি। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বসে আছি, এখনও সিরিয়াল পাইনি। আরও ঘণ্টাখানেক লাগবে।

নারী ও শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, সব শয্যাই রোগীতে পরিপূর্ণ। শয্যা না পেয়ে চাটাইয়ে শুয়ে আছেন এক নারী, পাশেই তার সন্তান। পৈয়াপাথর থেকে এসেছেন। ঠান্ডা থেকে বাচ্চাটির নিউমোনিয়া হয়েছে। 

নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের গুঞ্জর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলীম (৫৫) ও সজীব (২১) নামের এক শিক্ষার্থী হাসপাতালে এসেছেন নাক-কানের সমস্যা নিয়ে। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় মন খারাপ করে ফিরে যাচ্ছেন। তারা বলেন, নাকের মাংস বেড়ে গেছে। কানেও ব্যথা। এসে শোনেন চিকিৎসক নেই। তাই এখন আবার দেবিদ্বার অথবা কুমিল্লা যেতে হবে তাদের। 

মুরাদনগর উপজেলা ২২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ৫০ শয্যার একটি মাত্র সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বিষয়টি মানতে নারাজ সাধারণ সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। কম জনবল ও শয্যা নিয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন বলে মনে করেন তারাও। তাই তাদের দাবি চিকিৎসক ও হাসপাতালের শয্যা বাড়ানো হোক। 

এ ব্যাপারে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. এনামূল হক বলেন, হাসপাতালে প্রায় প্রতিদিনই রোগীর চাপ থাকে। জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে চিকিৎসাসেবা দিতে শয্যাসংখ্যা বাড়ানো দরকার। চিকিৎসক সংকটও রয়েছে। ১৪টি চিকিৎসক পদ শূন্য। চারজন প্রেষণে। আবার চারজন বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত। তাদের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে যথাসম্ভব রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা