× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চট্টগ্রাম ওয়াসা

১৬৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ের পরও পানি উৎপাদন প্রকল্প অন্ধকারে

সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৪ ১৬:০০ পিএম

১৬৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ের পরও পানি উৎপাদন প্রকল্প অন্ধকারে

চট্টগ্রামের সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের। এই সংকট থেকে উত্তরণে ২০১৬ সালে দৈনিক ৬ লাখ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করতে ‘ভাণ্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় চট্টগ্রাম ওয়াসা। কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার মধ্যবর্তী পাহাড়ি জনপদ জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার ৪১ দশমিক ২৬ একর জায়গায় ওপর এ প্রকল্প গড়ে তুলছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। প্রকল্প অনুমোদনের পেরিয়ে গেছে ৯ বছর। ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৬৯৭ কোটি টাকা। কিন্তু এখনও আলোর মুখ দেখেনি প্রকল্পটি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, করোনা ও মামলা মোকদ্দমার কারণে যথাসময়ে এর কাজ শেষ করা যায়নি। তবে শিগগিরই প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষে পানি সরবরাহ কাজ শুরু হবে। এই প্রকল্প থেকে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, কর্ণফুলী, পটিয়া, আনোয়ারা উপজেলার পাশাপাশি কোরিয়ান ইপিজেড, চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল, সিইউএফএল এবং কাফকো শিল্পাঞ্চলে পানি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। 

চট্টগ্রাম ওয়াসার তথ্যানুযায়ী, ভাণ্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি একনেকে অনুমোদন পেয়েছিল। শুরুতেই প্রকল্পের ব্যয় ছিল ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ধরা হয় ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তবে অনুমোদনের প্রায় তিন বছর পর ২০১৯ সালে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজ চলমান অবস্থায় ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রকল্পটি সংশোধন করে মেয়াদ ও ব্যয় দুটোই বাড়ানো হয়। প্রথম দফায় ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ। বর্ধিত ব্যয় গিয়ে ঠেকে ১ হাজার ৯৯৫ কোটি ১৫ লাখ টাকায়। চট্টগ্রাম ওয়াসার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাইইয়ং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।

৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে : বলছেন পিডি

বর্তমান প্রকল্পের অগ্রগতি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী মো. মাহবুবুল আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রকল্পের অধীনে দৈনিক ৬০ মিলিয়ন লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগার ও দুটি রিজার্ভার নির্মাণ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত ৬ লাখ কোটি লিটার সুপেয় পানি দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১০ লাখ মানুষের কাছে সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পের অধীনে পানি সরবরাহের জন্য পটিয়া বাইপাস এলাকায় পাঁচ একর এবং আনোয়ারার দৌলতপুর মৌজায় ২ দশমিক ৯৪ একর জায়গায় দুটি জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে। ১১৩ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হচ্ছে। বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরার ভাণ্ডালজুড়ি প্রকল্প থেকে পানির পাইপলাইন বোয়ালখালী মিলিটারিপুল পর্যন্ত বসানো হয়েছে। সেখান থেকে এই লাইনের একটি অংশ চলে গেছে আহলা দরবার শরিফ হয়ে পটিয়া পৌরসভা এলাকার দিকে। অপর অংশটি চলে গেছে কর্ণফুলীর শিকলবাহা ও মইজ্জ্যারটেক হয়ে আনোয়ারায়। সব মিলিয়ে ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৯৫ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। আর্থিক অগ্রগতিও ৮৫ শতাংশ।’

৯ বছরেও প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক মাহবুবুল আলম বলেন, ‘প্রকল্পটি অনুমোদনের তিন বছর পর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে নানা জটিলতা ও মামলা মোকদ্দমার ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এরপর এলো করোনা। তা ছাড়া পটিয়ার কালারপোল সেতুর একটি রিভার ক্রসিং নির্মাণ করতে গিয়েও নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এখনও সেটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। এসব কারণে সঠিক সময়ে নির্মাণকাজ শেষ করা যায়নি। তবে সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী জানুয়ারিতে এই প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহ কাজ শুরু হবে।’

ফিজিবিলিটি স্টাডি ঠিকভাবে হয়নি : সুজন

তবে যথাযথভাবে প্রকল্প নেওয়া হলে এটি সম্পন্ন হতে এত বছর লাগত না বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ছয় লাখ কোটি লিটার পানি উৎপাদন প্রকল্পটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্প নেওয়ার আগে সঠিকভাবে ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়নি। না হলে প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলমান থাকা অবস্থায় প্রকল্প সংশোধন করতে হতো না। মূলত ইচ্ছেমতো প্রকল্প নিয়ে প্রথমে অনুমোদন নিয়ে পরে মেয়াদ ও ব্যয় দুটো বাড়ানোর উদ্দেশ্যই হচ্ছে লুটপাট করা, প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের পকেট ভারী করা। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই পানি উৎপাদন প্রকল্প চালু করার দাবি জানাচ্ছি।’

প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্য

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া, কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলার ১০ লাখ মানুষ সুপেয় পানির আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের নির্মাণকাজও প্রায় শেষ দিকে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি থেকে পানি সরবরাহের জন্য চার উপজেলায় হাজারখানেক আবেদন জমা পড়েছে। ৬৫০ গ্রাহককে সংযোগও দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকসংখ্যাও পর্যায়ক্রমে বাড়বে। এ ছাড়াও ইতোমধ্যে সিইউএফএল কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে সেখানেও সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আশা করি শিগগির এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হবে। এখন পাইপ ওয়াশ ও জীবাণুমুক্তকরণের কাজ চলছে।’ 

প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ‘এই ভাণ্ডালজুড়ি প্রকল্প থেকে দৈনিক ৬ লাখ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করা যাবে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, কর্ণফুলী, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার ১০ হাজার নতুন গ্রাহক সংযোগ পাবে। পাশাপাশি আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় বিদ্যমান শিল্পাঞ্চলগুলোতেও সুপেয় পানির সংযোগ দেওয়া হবে।

জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কোরিয়ান সরকারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অব কো-অপারেশন ফান্ডের (কেইডিসিএফ) পক্ষে ঋণ হিসেবে কোরীয় এক্সিম ব্যাংক দিচ্ছে ৮২৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ১ হাজার ১৫০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা দিচ্ছে ২০ কোটি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা