বার্ষিক তীর্থোৎসব
শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৪ ২১:৩৫ পিএম
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৪ ২১:৩৮ পিএম
হাজারো মোমবাতির আলোয় আলোকিত গারো পাহাড় আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শুক্রবার (১ নভেম্বর) দুপুরে শেষ হয়েছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা বারোমারী সাধু লিওর খ্রিস্টধর্ম পল্লীতে দুদিনব্যাপী বার্ষিক তীর্থোৎসব।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘প্রার্থনার অনুপ্রেরণা ফাতেমা রাণী মা-মারিয়া; যে পরিবার একত্রে প্রার্থনা করে, সে পরিবার একত্রে বসবাস করে’ এই মূল সুরের ওপর ভিত্তি করে ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের দুদিনব্যাপী বার্ষিক তীর্থোৎসব শুরু হয়।
তীর্থ উৎসবে উদ্বোধনী খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের সহকারী বিশপ সুব্রত বনিফাজ গোমেজ।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শুরু হয় আলোক শোভাযাত্রা। এতে পঞ্চাশ হাজারেরও অধিক খ্রিস্টভক্ত মোমবাতি জ্বালিয়ে দুই কিলোমিটার পাহাড়ি ক্রুশের পথ অতিক্রম করেন। রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় সাক্রামেন্তের আরাধনা ও সবশেষে অনুষ্ঠিত হয় নিশি জাগরণ। পরে গতকাল সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত জীবন্ত ক্রুশের পথ ও সকাল ১০টায় মহা খ্রিস্টযাগের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী তীর্থোৎসবের সমাপনী হয়।
উৎসবে শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম, ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের বিশপ পল পনেন কুবি সিএসসি, বারোমারী ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার তরুণ বনোয়ারী, সহকারী পাল পুরোহিত ফাদার নোবেল পাথাং প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তীর্থ উৎসব ঘিরে নেওয়া চার স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা প্রদান করে। তীর্থ উৎসব উপলক্ষে পাশের স্কুল মাঠে বসে বিরাট মেলা। এতে খ্রিস্টভক্ত ছাড়াও অন্য ধর্মের মানুষ কেনাকাটা করে।
তীর্থোৎসবে আসা তীর্থযাত্রীরা জানান, ফাতেমা রানী মা মারিয়ার কাছে যে যা চান, তিনি তাদের তাই দেন। তার কাছে আসা ভক্তদের মনের আশা পূরণ করেন। এজন্য অনেকেই তাদের পরিবারের সঙ্গে এসেছেন। অনেকে এসেছেন তাদের পরীক্ষা এবং শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফল করার জন্য। আবার অনেকেই এসেছেন পরিবারের সুখ-শান্তি কামনা করার জন্য।
ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের সহকারী বিশপ সুব্রত বনিফাজ গোমেজ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ঈশ্বরের আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য খ্রিস্টভক্তরা এখানে প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন। এখানে এসে ঈশ্বরের অশেষ কৃপা প্রার্থনা করে মানসিক মুক্তি ও পারিবারিক শান্তি লাভ করেন। মা মারিয়া হলেন আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল। তাই সবাই এখানে ছুটে আসে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ কামনা করতে। এ ছাড়া বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে।
শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, খ্রিস্টভক্তরা যাতে নির্বিঘ্নে তীর্থ উৎসব পালন করতে পারে সেজন্য তীর্থস্থানে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কোনো অঘটন ছাড়াই গতকাল শান্তিপূর্ণভাবেই তীর্থ শেষ হয়েছে।