× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মৌলভীবাজারের জুড়ী

কমলায় অজ্ঞাত রোগের হানা, চাষে বিপর্যয়

ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৪ ০৯:৪৪ এএম

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে অজ্ঞাত রোগে মারা যাচ্ছে কমলা গাছ। এতে উপজেলায় ফলটি উৎপাদনে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রবা ফটো

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে অজ্ঞাত রোগে মারা যাচ্ছে কমলা গাছ। এতে উপজেলায় ফলটি উৎপাদনে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রবা ফটো

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় কমলা গাছে অজ্ঞাত রোগ দেখা দিয়েছে। একের পর এক মারা যাচ্ছে ফলবান কমলা গাছ। এতে উপজেলায় ফলটি উৎপাদনে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ষাটের দশকের শেষ দিকে বর্তমান জুড়ী উপজেলায় অবস্থিত কমলা বাগানগুলোতে অজ্ঞাত রোগ ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় এ অঞ্চলের শতাধিক কমলা বাগান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। অজ্ঞাত রোগে বাগানগুলোর হাজার হাজার কমলা গাছ মারা গেলে কমলা চাষিরা চরম হতাশ হয়ে পড়েন এবং কমলা চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। পরে সমন্বিত উদ্যোগ ও পরিকল্পনায় জুড়ীতে আবারও শুরু হয় কমলা চাষ। কিন্তু ২০১৩-১৪ মৌসুমে আবারও এ উপজেলার কমলার বাগানে অজ্ঞাত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। ওই সময়ও কৃষি বিভাগ ও কমলা চাষিদের চেষ্টায় বাগানগুলো ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়। তবে সম্প্রতি আবারও ওই একই ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে বাগানগুলোতে। 

উপজেলার কমলা চাষিরা জানান, উপজেলার ৮ নম্বর গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের লালছড়া, সুকনাছড়া, হায়াছড়া, কচুরগুল, পূর্ব কচুরগুল, রুপাছড়া, সোনাছড়া, উত্তর কুচাইরতলসহ বিভিন্ন পাহাড়ি জনপদের কমলা বাগানগুলোর গাছে গাছে চলতি মৌসুমে লাখ লাখ কাঁচা কমলালেবুর ফলন হওয়ায় চাষিরা আনন্দিত হয়েছিলেন। কিন্তু গাছে কমলা পাকার আগেই কাঁচা কমলা ও কমলা গাছে অজ্ঞাত রোগ দেখা দিয়েছে। এতে চাষিদের মুখের হাসি ফিকে হয়ে গেছে। 

৮ নম্বর গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের লালছড়া গ্রামের কমলা চাষি মোর্শেদ মিয়া বলেন, ‘আমার বাগানে দেড় সহস্রাধিক কমলা গাছ ছিল। বর্তমান মৌসুমে গাছে গাছে ফল আসার পর ২০০-৩০০ গাছে রোগ দেখা দিয়েছে। এসব গাছ মারা যাওয়ার পথে।’ রোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমে মাটির নিচে কমলার শিকড় থেকে পানি চুষে ফেলে একধরনের সাদা পোকা। পরে গাছের শিকড় খেয়ে ফেলে। এ অবস্থায় প্রথম বছর গাছের পাতা হালকা হলুদ হয়, দ্বিতীয় বছর পাতা পুরোপুরি হলুদ হয়ে যায়, তৃতীয় বছর গাছটি মারা যায়।’

কমলা চাষি ফজর আলী বলেন, ‘মৌসুমে যখন কমলা পরিপূর্ণ হয়ে পড়ত গাছের ডাল-পালা, তখন আমরা অর্থাৎ চাষিরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠি। গাছে কমলা ধরা মানে টাকা ধরা, একটা কমলা মানে আকারভেদে ১০ থেকে ২৫ টাকা অর্থাৎ কমলা সংগ্রহ করলেই টাকা।’ এখন আর তার মনে সেই আনন্দ নেই, নেই হাসির ঝিলিকও। অজ্ঞাত রোগে কমলা উৎপাদনের বিপর্যয়ে এমনটি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, ‘ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কমলা বাগানগুলো আমরা পরিদর্শন করেছি। কমলা চাষিদের দেওয়া তথ্য ও আমাদের পরিদর্শনে কমলা বাগানগুলোতে গাছ মরে যাওয়ার কারণ হিসেবে আমরা বেশ কিছু সমস্যা নির্ণয় করেছি। উইপোকা, মিলিবাগ, ফ্লোমিং, বিটল, গান্ধী প্রজাপতি পোকার আক্রমণে বাগানগুলো সমস্যায় পড়েছে। সব কমলা বাগানই পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় পোকামাকড়ের আক্রমণ কিছুটা বেশি হয়ে থাকে। আমরা চাষিদের প্রয়োজনীয় কীটনাশক সরবরাহ করেছি। এর মধ্যে কিছু কীটনাশক বাগানগুলোতে পোকামাকড়ের আক্রমণ কমাতে কাজ করেছে। কিছু কীটনাশক একেবারেই কাজ করেনি। এখানের বাগানগুলোতে অপরিচিত কিছু মথ আছে যেগুলোকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কৃষি গবেষণা থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের দল নিয়ে আসার ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

এ ব্যাপারে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবলু সূত্রধর বলেন, ‘কমলার বাগানগুলোতে অজ্ঞাত রোগ ছড়িয়ে পড়ার খবর পেয়ে সম্প্রতি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ আমরা অনেকগুলো কমলা বাগান পরিদর্শন করেছি। কেন কমলা গাছ মারা যাচ্ছে তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বিশ্লেষণসহ সুপারিশ আকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হবে, যাতে কমলাচাষিরা উপকৃত হন এবং কমলা চাষ সমৃদ্ধ হয়।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা