বরিশাল
শাকিল মাহমুদ, বরিশাল
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৪ ১১:৫২ এএম
গত ১৩ অক্টোবর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের নিচতলার স্টোর রুমে আগুন লাগে। হাসপাতালের কর্মচারীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা চালালেও বেশিরভাগ অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ছিল বিকল। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বরিশালে কেবল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নয়, আগুন নেভাতে জেলার সরকারি অফিসগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র থাকলেও বেশিরভাগেরই নেই মেয়াদ। কোনোটি অকেজো, আবার কোনো কোনো দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানেন না এর ব্যবহার পদ্ধতি। একেকটি অগ্নি দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসলেও নেন না কার্যকর কোনো পদক্ষেপ।
এর আগে গত জুন মাসেও বরিশাল শের-ই-বাংলা হাসপাতালের আরেকটি স্টোর রুমে আগুন লাগে। তখনও ক্ষয়ক্ষতি হয় সরকারি সম্পত্তির। এভাবে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে, কিন্তু টনক নড়ে না কর্তৃপক্ষের। হাসপাতালটির বেশিরভাগ অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রই বিকল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ।
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীর স্বজন আসিফ বলেন, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একের পর এক আগুন লাগার ঘটনা ঘটলেও টনক নড়েনি প্রশাসনের। একই অভিযোগ হাসপাতালের কর্মচারীদেরও। তারা জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন তারা। দ্রুত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেন ব্যবস্থা নেন, সেই দাবিও করেন তারা।
তবে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘দুয়েক জায়গায় দুয়েকটি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র বিকল থাকতে পারে। বাকি সবই সচল রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, নগরীর বেশিরভাগ সরকারি অফিসের অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রও অকেজো। খোদ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের বেশ কয়েকটিরই মেয়াদ নেই। জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও আইনজীবী সমিতির ভবনগুলোরও একই অবস্থা। এসব অফিস আদালতে প্রতিদিনই কয়েক হাজার মানুষ সেবা নিতে আসেন। তাই কোনো অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা করছেন আইনজীবীরা।
বরিশাল জেলা ও দায়রা আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজু বলেন, ‘প্রতিদিন হাজারো মানুষের আনাগোনা হয় সরকারি বিভিন্ন অফিস ও আদালতে। তবে এসব জায়গায় আগুনের ঝুঁকি রয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের ব্যবস্থা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। কোনোভাবেই মানুষকে আগুনের ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না।’
বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. মোস্তফা মহসিন বলেন, ‘যেসব অফিসে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র অকেজো হয়ে পড়ে আছে, সেখানকার কর্মকর্তারা বিষয়টি জানালে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’ তিনি বলেন, জনবল সংকট থাকলেও আমরা সব সময় কাজ করে যাচ্ছি। শীত এলেই আগুন লাগার ঘটনা বেড়ে যায়। এমন অবস্থায় অনেকেই আগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের বিষয়ে উদাসীন। তবে সবার সহযোগিতা পেলে বরিশালকে আরও নিরাপদ করে গড়ে তোলা যাবে। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় বর্তমানে ৪২টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালু রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।