বেতাগী (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৪ ১৭:৪৯ পিএম
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৪ ১৭:৫২ পিএম
গ্রেপ্তারকৃত মো. আরিফুর রহমান।
ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরির অভিযোগে বরগুনার বেতাগীর মোকামিয়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) উদ্যোক্তা মো. আরিফুর রহমানকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। আটক আরিফুর রহমান উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের উত্তর করুণা গ্রামের ফরিদ মাতুব্বরের ছেলে। তিনি জাল সনদ (জন্মনিবন্ধন) তৈরি করে আসছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক আহমেদ গত বুধবার বিকালে মোকামিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় পরিদর্শনে যান। এ সময় ওই উদ্যোক্তার কাছে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চান। অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে তিনি অন্তত ৩১৪টি জাল জন্মনিবন্ধনের সন্ধান পান। পরে বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) তাকে পুলিশে দেওয়া হয়।
আরিফুর রহমানের কম্পিউটার তল্লাশি করে ফেনী, ময়মনসিংহ, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ৩১৪টি জন্মনিবন্ধন পাওয়া যায়। চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে মোকামিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও চেয়ারম্যানের আইডি ব্যবহার করে এসব জন্মনিবন্ধনের সনদ তৈরি করেন তিনি। এত অল্প সময়ে এতগুলো জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরির বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে যাদের নামে জন্মনিবন্ধন হয়েছে তারা বাংলাদেশি না রোহিঙ্গা, তা নিশ্চিত হতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন। এসব জন্মনিবন্ধন বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান জালাল গাজী বলেন, তথ্যসেবা কেন্দ্রের দায়িত্বরত উদ্যোক্তা আমার ও সচিবের সঙ্গে প্রতারণা করে আইডি জেনে নেয়। এত কম সময়ের মধ্যে এতগুলো জন্মনিবন্ধন তৈরি করা সম্ভব নয়।
ইউএনও ফারুক আহমেদ বলেন, মোকামিয়া ইউপির তথ্যসেবা কেন্দ্রে অস্বাভাবিক হারে জন্মনিবন্ধন তৈরির বিষয়টি বেশ কিছুদিন ধরে সন্দেহজনক মনে হচ্ছিল। সেখানে গিয়ে ইউডিসির উদ্যোক্তার কাছে দেখা যায়, জন্মনিবন্ধন করা ব্যক্তিদের বর্তমান ঠিকানা বা জন্মস্থান বেতাগী উপজেলায় নয়। একেক জনের জন্মস্থান একেক স্থানে।
বেতাগী থানার ওসি একরামুল হক বলেন, উদ্যোক্তা আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।