হাসান লিটন, চরফ্যাশন (ভোলা)
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৪ ১২:৩৭ পিএম
আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:১৩ পিএম
চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ গ্রামের চাষি আমির হোসেন মাচায় ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজ চাষে লাভবান হয়েছেন। প্রবা ফটো
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণের বাসিন্দা আমির হোসেন। বছরজুড়ে বিভিন্ন সবজির চাষাবাদই ছিল তার পেশা। সবজি চাষে আয়ও মন্দ ছিল না। কিন্তু বাজারে বিদেশি জাতের ‘ব্ল্যাক বেবি’ তরমুজ চড়া দামে বিক্রি হতে দেখে তা চাষে আগ্রহ জাগে তার। একটি বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় অনাবাদি জমিতে মাচা তৈরির মাধ্যমে তরমুজ চাষ শুরু করেন। ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তরমুজ থেকে তিনি লাভ করেছেন দিগুণেরও বেশি।
আমির হোসেন জানান, নিজের অনাবাদি ২৪ শতাংশ জমিতে ক্যানেল করে বাঁশ ও ছেঁড়া ইলিশ জাল দিয়ে মাচা তৈরি করেন তিনি। পল্লী-কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) অর্থায়নে এবং পরিবার উন্নয়ন সংস্থার (এফডিএ) সহযোগিতায় সেখানে ‘ব্ল্যাক বেবি’ জাতের তরমুজের বীজ বপন করেন তিনি। মাত্র দুই মাসের মাথায় বাম্পার ফলন হওয়ায় তিনি লাভ করেছেন বিনিয়োগের দিগুণ টাকা।
আমির হোসেন বলেন, আমি মূলত সবজি চাষ করি। বাজারে দেখি ‘ব্ল্যাক বেবি’ জাতের তরমুজের চড়া দাম। সেখান থেকে তরমুজ চাষে আগ্রহী হই। দুটি উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় ২৪ শতাংশ অনাবাদি জমিতে মাচা ও ক্যানেল তৈরি করে বীজ বপন করি। মাত্র দুই মাসের মাথায় ফলন পাই। খরচ হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে ১ লাখ ১০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি। এখনও প্রায় ৩০ হাজার টাকার তরমুজ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাজারে এই তরমুজের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্ল্যাক বেবি তরমুজ ৮০-৯০ টাকা দরে বিক্রি করি। একটি তরমুজের ওজন ২ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত হয়। তরমুজ চাষে অল্প পুঁজিতে অধিক লাভবান হওয়া যায়। এ কারণে আগামী বছর ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষ তিনগুণ বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে।
আমির হোসেনের খামারের উৎপাদিত তরমুজ চরফ্যাশন সদর বাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন জেলার বাইরেও রপ্তানি হচ্ছে। তার এই সফলতা দেখে গ্রামের অনেক চাষি তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, শীতকাল ছাড়া বছরের যেকোনো সময় দুই থেকে তিনবার ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজ চাষ করা যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, আমি একাধিকবার আমির হোসেনের ব্ল্যাক বেবি তরমুজের খামার পরিদর্শন করেছি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) কৃষি সম্প্রসারণে মাঠ পর্যায়ে ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষের প্রসার বাড়তে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ তরমুজের চেয়ে ব্ল্যাক বেবি তরমুজ বেশি মিষ্টি ও সুস্বাদু। পরিবার উন্নয়ন সংস্থার (এফডিএ) সার্বিক সহযোগিতায় উচ্চ মূল্যের এ ফসল আবাদ করার মাধ্যমে কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজ চলছে। আমরা আশা করছি ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চরফ্যাশন উপজেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে জেলার বাইরেও দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করবে।