ইন্দুরকানী সিএইচসিপি
ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:১৭ পিএম
আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:২৭ পিএম
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের টানা তিন মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এসব স্বাস্থ্যকর্মী। বরাদ্দ না থাকায় এবার সনাতন ধর্মাবলম্বী সিএইচসিপিরা শারদীয়া দুর্গাপূজার উৎসব ভাতাও হাতে পাননি।
উপজেলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১২টি কমিউনিটি ক্লিনিকে বর্তমানে ১২ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) কর্মরত আছেন। অপারেশন প্ল্যানের আওতায় প্রতি তিন মাস অন্তর সিএইচসিপিদের বেতন ছাড় হয়ে আসছে। তারা গত জুন মাস পর্যন্ত নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলতে পারলেও জুলাই মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। গত আগস্ট মাসে চাকরি রাজস্ব খাতে নেওয়ার দাবিতে ঢাকায় আন্দোলন করে সিএইচসিপিরা। এ সময় স্বাস্থ্য উপদেষ্টার আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিতও করেন তারা। উন্নয়ন খাত থেকে চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর জটিলতায় নতুন বরাদ্দ না হওয়ায় তাদের এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। তবে দীর্ঘদিন যাবত বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে চরম অর্থ কষ্টে ভুগছেন এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা। চলতি মাসের মধ্যে বেতন-ভাতা ছাড় হবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। এ কারণে চরম হতাশায় ভুগছেন এসব সিএইচসিপি।
পত্তাশী কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার প্রবীর মৃধা বলেন, আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি। বর্তমান সরকার উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ওষুধও আমাদের মাধ্যমে জনগণকে দিচ্ছেন। আমরা যেখানে অন্যের হৃদক্রিয়া সচল রাখছি, সেখানে তিন মাস বেতন না পেয়ে আমাদের হৃদযন্ত্র বন্ধের উপক্রম। আমরা পরিবার নিয়ে অতি কষ্টে আছি।
ইন্দুরকানী উপজেলা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, উন্নয়ন খাত থেকে চাকরি রাজস্ব খাতে যেতে স্বাস্থ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন, যা গত তিন মাসেও হয়নি। এ কারণে আমরা বেতন-ভাতা না পেয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ননী গোপাল রায় বলেন, সমস্যাটি শুধু এ উপজেলায় নয়, সারা দেশেই। আশা করি সমস্যাটি দ্রুত মিটে যাবে এবং নতুন বরাদ্দ হলে তারা বেতন-ভাতা পাবেন।