গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৪ ২০:২৯ পিএম
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৪৩ পিএম
শামীম খান ও ফাতেমা আক্তার।
গাজীপুর সদর উপজেলায় চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের কাছ থেকে শ্রমিক সংগঠনের নামে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় তৃণমূল শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শ্রমিকরা জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। গত সোমবার বিকালে সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তবে অভিযুক্ত শ্রমিক নেতারা বলছেন, জোরপূর্বক কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভবানীপুরের বেগমপুর গ্রামের পলমল সাফা সোয়েটারস লিমিটেডে কয়েক শতাধিক শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। গত ১২ অক্টোবর পূজার ছুটির দাবিতে প্রথমে কর্মবিরতি, পরে ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০০ শ্রমিককে শ্রম আইন অনুযায়ী চাকরিচ্যুত করে। তাদের সব পাওনা পরিশোধের অঙ্গীকার করে।
গত ১৪ অক্টোবর পাওনা পরিশোধের জন্য সময় ও স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। শ্রমিকরা বকেয়া টাকার জন্য সেখানে উপস্থিত হলে শামীম খান ও ফাতেমা আক্তার নামে দুজন নিজেদের বাংলাদেশ তৃণমূল গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দেন। এরপর অর্থপ্রাপ্তির পেছনে তাদের ভূমিকা রয়েছে দাবি করে শ্রমিকদের প্রাপ্য অর্থের একটি বড় অংশ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা প্রত্যেক শ্রমিকের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৭ হাজার টাকা করে আদায় করেন। এভাবে তারা ১৪ লাখ টাকা নেন। শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং ভবিষ্যতে কোনো কারখানায় চাকরি করতে না দেওয়ার হুমকি দেন।
অভিযুক্ত ফাতেমা আক্তার বলেন, শ্রমিকরা যাতে পাওনা বুঝে পান এবং বহিরাগতরা ঝামেলা না করতে পারে, এজন্য ঘটনাস্থলে ছিলাম। ওই সময় ৭০ থেকে ৮০ জনকে পাওনা বুঝে দেওয়া হয়। পরে তারা খুশি হয়ে আমাদের ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে দেন। এই টাকা নেওয়া দোষের কিছু না, এটি আমাদের সংগঠনের গঠনতন্ত্রে রয়েছে। শ্রমিকরা যে ১৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছে তা অসত্য।
শ্রমিকনেতা আরমান হোসাইন বলেন, শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শাস্তি দিতে হবে। ১৬০ জন শ্রমিকের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে এক মাসের বেসিক কেটে রাখা হয়েছে।
জয়দেবপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম জানান, শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।