হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:২২ পিএম
ফাইল ফটো
সকালে চট্টগ্রাম নগরীর রিয়াজউদ্দিন কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছিল ৩৬০ টাকায়। সময় গড়িয়ে দুপুর না হতেই ওই কাঁচামরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হয় ২৫০ টাকায়। এই হিসাবে রিয়াজউদ্দিন বাজারে ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম ওঠানামা করেছে ১১০ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে এমনটাই দেখা যায়।
শুধু কাঁচামরিচ নয়, প্রতিদিন এভাবেই সকাল-বিকাল সবজির দাম ওঠানামা করে। সকালে যে সবজির দাম ১০০ টাকায় বিক্রি হয়, দিন গড়িয়ে বিকালে তা বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।
আড়তদাররা বলছেন, সবজির বাজারটাই এমন। ট্রাক থেকে নামানোর পর সকালে সবজির দাম কিছুটা বেশি থাকে। এরপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সবজির দাম কমে যায়।
মেসার্স সাকিব ট্রেডার্সের মালিক শাহ আলম বলেন, ‘সবজি কাঁচামাল। বিক্রি না করে মজুদ করার সুযোগ নেই। এ কারণে সবজি বিক্রি করতে দেরি হলেই দাম কমে। সকালে প্রতি কেজি মুলা ১০৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, সেখানে দুপুরে ওই একই মুলা বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়। সবজির দাম কারসাজি করে বাড়ানোর সুযোগ নেই। সরবরাহ কম থাকলে মোকামে দাম বাড়ে। ফলে পাইকারিতেও দাম বাড়ে। এখন বন্যা ও অতি বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কম। তাই বাজারে সবজির দাম বেশি।’
রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রামে সবজির চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও চন্দনাইশ থেকে সরবরাহ হয়। বাকি ৬০ শতাংশ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আসে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে মিষ্টিকুমড়া, লাউ ও পটল আসে। মেহেরপুর থেকে আসে ফুলকপি, বাঁধাকপি। নরসিংদী থেকে আসে শসা, কাঁকরোল। চুয়াডাঙ্গা থেকে আসে পেঁপে। কুষ্টিয়া থেকে আসে কাঁচামরিচ। বান্দরবান থেকে আসে পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া। নোয়াখালী থেকে আসে শসা। কিন্তু বন্যার কারণে মেহেরপুর চুয়াডাঙ্গা, নরসিংদী ও নোয়াখালী থেকে খুব একটা সবজি আসছে না। ফলে বাজারে সবজির সরবরাহ অনেক কম। তাই সবজির দাম বাড়ছে।
আড়তদাররা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ে অক্টোবর মাসে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ৮০ থেকে ৯০ ট্রাক সবজি রিয়াজউদ্দিন বাজারে আসত। সেখানে এখন আসছে ৮ থেকে ১০ ট্রাক। চাহিদার তুলনায় সবজির সরবরাহ কম হওয়ায় বাজারে ক্রেতা বেশি থাকে। অধিকাংশ খুচরা বিক্রেতা ভোরে সবজির জন্য এ বাজারে আসে। তাই সকালে সবজির দাম কিছুটা বেশি থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক মাসের ব্যবধানে বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। এক মাস আগে যেখানে পাইকারিতে প্রতি কেজি লাউ বিক্রি হয়েছিল ২০ থেকে ২২ টাকায়, সেখানে গতকাল প্রতি কেজি লাউ বিক্রি হয়েছে ৩২ থেকে ৩৫ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। মুলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, কাঁকরোল ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকায়, শসা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়।
এদিকে পাইকারিতে সকাল-বিকাল সবজির দাম ওঠানামা করলেও খুচরায় অনেকটা নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, বরবটি কেজি ১২০ টাকায়, প্রতি কেজি আলু ৫৫ টাকায়, গোল বেগুন ১৩০ টাকা, লম্বা বেগুন ১১০ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স প্রতি কেজি ৯০ টাকা, লাউ প্রতি কেজি ৫০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকা, তিত করল্লা প্রতি কেজি ১২০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ২৫০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঝিঙা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।