কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৪ ১৭:২০ পিএম
আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:১৩ পিএম
বাবুল মিয়া। ফাইল ফটো
কুমিল্লায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে এক তরুণ নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৪ জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ অক্টোবর) রাতে জেলার মনোহরগঞ্জের সাতেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৪ অক্টোবর) মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহত তরুণের নাম বাবুল মিয়া। তিনি সাতেশ্বর গ্রামের সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন।
আহতরা হলেন- দুলাল মিয়া, আবদুল মান্নান, মনির হোসেন এবং যুবদল নেতা এমরান হোসেন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বেলা ১১টায় সাতেশ্বর গ্রামের নড়াই বাড়ির পাশ দিয়ে অটোরিকশা চালিয়ে যাচ্ছিল একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে রিমন ওরফে হৃদয় মিয়া। দ্রুতগতিতে অটোরিকশা চালিয়ে যাওয়ায় ওই বাড়ির শিশুদের গায়ে ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে ওই বাড়ির বাসিন্দাসহ স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে অটোরিকশাচালক হৃদয়ের তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। পরে হৃদয় ফেরার সময় বিষয়টি নিয়ে ওই বাড়ির লোকজনের সঙ্গে আবার ঝামেলা হয়।
ঘটনাটি সমাধানের জন্য সোমবার সন্ধ্যার পর সাতেশ্বর পূর্বপাড়ার একটি দোকানের সামনে সালিশ বৈঠক বসে। এ সময় খিলা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আবদুল মতিন, ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি এমরান হোসেনসহ গ্রামের গণ্যমান্যরা দুই পক্ষকে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হৃদয়সহ তার পক্ষে থাকা সুমন, রুবেল, অন্তর, রিপন, আবদুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন এ সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। তারা অপর পক্ষের ওপর হামলা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
একপর্যায়ে বাবুলসহ স্থানীয় লোকজন তাদের থামাতে গেলে হৃদয়সহ তার লোকজন চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এ সময় বাবুলকে পায়ে, পিঠে ও হাতে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে লাকসাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মনোহরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘটনার পর রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অটোরিকশাচালক হৃদয়সহ তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জেনেছে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। এতে ১০ জনের নাম ও অজ্ঞাত ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার মূল আসামি ও বাবুলকে ছুরিকাঘাত করা সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’