নির্মাণাধীন তিস্তা সেতু
গাইবান্ধা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৫৩ পিএম
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৪ ২১:২৫ পিএম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর শাখায় নির্মাণাধীন সেতুর অর্ধেক অংশ ভেঙে গেছে।
ভেঙে গেল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর শাখায় নির্মাণাধীন সেতুর অর্ধেক অংশ। কয়েক মাস আগে কাজ শেষের আগেই দেবে গিয়েছিল সেতুটি। ফলে দীর্ঘদিনের পারাপারের ভোগান্তি দূর হওয়ার আশাও শেষ হয়ে গেল চরাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার মানুষের। তিস্তা নদীর পারাপারের দুর্ভোগ আর শেষ হলো না।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বেলকা ও হরিপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের অন্তত ২০ হাজার মানুষ এই শাখা নদীর খেয়াঘাট ব্যবহার করে বেলকা বাজারসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করেন। খেয়ার নৌকা ধরতে গড়ে প্রায় এক ঘণ্টা করে অপেক্ষা করতে হতো তাদের। বিশেষ করে, অসুস্থ রোগীদের পারাপারে স্বজনদের ভোগান্তির সীমা থাকে না। সময়মতো ক্লাস ধরতে না পেরে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও পড়ত বিড়ম্বনায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নৌকা ধরতে না পারলে কখনও কখনও এক-দুই ঘণ্টা করে ক্লাসও মিস করতে হতো।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় উপজেলা পরিষদ। নকশা প্রস্তুত করে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় সেতুটির দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয় ৩৪৪ ফুট এবং প্রস্থ ৫ ফুট। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছানা এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পের কাজ ২০২৩ সালের জুন মাসের শেষ হওয়ার কথা।
কিন্তু ২০২৪ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলন করে। বিষয়টি জানাজানি হলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। জুনের মাঝামাঝি কাজ শেষ হয়। তবে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে কয়েক দিনের মধ্যেই সেতুর মাঝখানের অংশ দেবে যায়। এতে সেতুটি অচল হয়ে পড়ায় আবারও নৌকায় পারাপার হতে হয় স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা আশা করছিলেন, সেতুটি মেরামত করে পুনরায় চালু করা হবে। কিন্তু গত মঙ্গলবার সকালে তীব্র স্রোতে দেবে যাওয়া অংশসহ সেতুটির উত্তরের প্রায় অর্ধেক অংশ ভেঙে পড়ে। ফলে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘নিম্নমানের কাজের কারণে সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় দীর্ঘদিনের কষ্ট আর দূর হলো না। এখন আগের মতোই নৌকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। শিক্ষায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।’
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিন যুগ ধরে পারাপারের কষ্টের কোনো সমাধান পেলাম না। প্রতিদিন ১০ টাকা করে দিলে মাসে ৩০০ টাকা ব্যয় হয়। রোগীদের হাসপাতালে নিতে কিংবা কৃষিপণ্য হাটে নিয়ে যেতে খুবই কষ্ট হয়। এই দুর্ভোগ থেকে কবে মুক্তি মিলবে।
বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, ‘নিম্নমানের কাজের কারণে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পূর্বেই সেতুটির কয়েকটি পিলার গত জুনে দেবে যায়। গত মঙ্গলবার সকালে সেতুর অর্ধেক অংশ ভেঙে পড়েছে। এতে লোকজনের পারাপারে আবারও সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।’
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে সেতু মেরামতের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
চলতি বছরের জুন মাসে সেতুটির চারটি পিলার দেবে যাওয়ার পর ঠিকাদারের প্রতিষ্ঠান মেসার্স ছানা এন্টারপ্রাইজের লোকজন কাজ ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাই অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজির হোসেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। পরে খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।