ছয় দিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলি বাজারে দ্বিগুণ বেড়েছে প্রতিটি সবজির দাম। উত্তরাঞ্চলে টানা বর্ষায় ক্ষেতে কৃষকের সবজি নষ্ট হওয়ায় বাজারে কমেছে আমদানি; যার কারণে দাম বৃদ্ধি বলছেন সবজি ব্যবসায়ীরা। এদিকে হঠাৎ দাম বাড়ায় বিপাকে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ।
মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকালে হিলি সবজি বাজারে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ছয় দিন আগে যে পটোলের দাম ছিল ২৫ টাকা কেজি, বর্তমান তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, ৩০ টাকার শস ৬০ টাকা, ৩০ টাকার কচু ৬০ টাকা, ৩০ টাকার ঢেঁড়স ৬০ টাকা, ৫০ টাকার করলা ৮০ টাকা, ৩০ টাকার বাঁধাকপি ৬০ টাকা, ২০ টাকার লাউ ৫০ টাকা, ৪০ টাকার কাঁকরোল ৬০ টাকা, ৩০ টাকার মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকা, ৪ টাকার লালশাকের আঁটি ৮ টাকা, ৫০ টাকার বেগুন ৭০ টাকা, ৭০ টাকার পেঁয়াজ ৮০ টাকা ও ২০০ টাকা কেজি দরের কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা। প্রতিটি সবজির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারা।
বন্দর বাজারে সবজি কিনতে আসা অজিতকুমার বলেন, ‘আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। বর্তমানে তেমন কোনো ইনকাম নাই। বাজারে এলে মাথা ঘুরে যাচ্ছে সব সবজির দাম শুনে। প্রতিটি সবজির দাম অনেক বেড়েছে। এভাবে দাম বাড়লে আমরা চলব কী করে?’
দিনমজুর ইকবাল হাসান বলেন, ‘বর্তমানে তেমন কোনো কাজকাম পাচ্ছি না। কিন্তু পেট তো আর থেমে থাকবে না। বাজারে তরকারি কিনতে এসে হিসাব মিলছে না। প্রতিটি সবজির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা। সংসার চলানোই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
হিলি বন্দর বাজারে সবজি ব্যবসায়ী সোহেল হোসেন বলেন, ‘তরকারির বাজারে আগুন লেগেছে। বাজারে কোনো সবজিই ঠিকমতো আমদানি হচ্ছে না। পাঁচবিবি ও বিরামপুর থেকে কিনে আনছি। মোকামেও আমদানি কম এবং দামও অনেক বেশি। বর্ষায় কৃষকের সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে; যার কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।’