রানীপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়
মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:১৬ পিএম
আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:১৭ পিএম
রানীপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়। প্রবা ফটো
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাঙ্গা এবং অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহেল কাফীর বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকা নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের পুকুর, ধানের জমি ও দোকান ভাড়ার লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করারও অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
তাদের এসব কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের ২০ জন অভিভাবক সদস্য।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রানীপুকুর স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাঙ্গা আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং রানীপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। রানীপুকুর স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর শফিকুল ইসলাম রাঙ্গা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আব্দুলাহেল কাফীর যোগসাজশে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্ধকোটি টাকা নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে গিলে খেয়েছেন। শফিকুল ইসলাম রাঙ্গার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে আবদুল্লাহেল কাফী রানীপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং মহাবিদ্যালয়ে একক আধিপত্য বিস্তার করেছেন।
শনিবার (৫ অক্টোবর) সরেজমিনের গিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে নিয়োগ বাণিজ্য ছাড়াও ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি ফি, সেশন ফি, বেতন, ফরম পূরণ এবং প্রশংসাপত্র থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে তা ব্যাংকে জমা করা হয়নি। উপবৃত্তি বাবদ টিউশন ফি উত্তোলন করে বিদ্যালয়ের কাজ না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। সরকার কর্তৃক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের থেকে জবাবদিহি ৫ লক্ষ টাকার ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক নির্মাণে বরাদ্ধকৃত টাকাও আত্মসাৎ করেছেন সভাপতি এবং অধ্যক্ষ।
অভিযোগকারী অভিভাবক সদস্য গোলাম মোস্তফা, নাজমুল সাহেদ, ফরহাদ আলী, জুয়েল মিয়া ও নুরজাহান বেগম জানান, আমরা ইতিমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাঙ্গা এবং অধ্যক্ষ আবদুল্লাহেল কাফির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি। আমরা এই দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ এবং সাবেক সভাপতির বিচার ও উপযুক্ত শাস্তি চাই।
নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে রানীপুকুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহেল কাফির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিভাবক সদস্যরা প্রত্যেকেই একজন করে লোক নিয়োগ দিয়েছে। টাকা পয়সা যা নেওয়ার সভাপতিসহ তারাই নিয়েছেন। বাকি অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাঙ্গার সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সরকার পতনের পর তিনি গা ঢাকা দেওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও বিকাশ চন্দ্র বর্মণ জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।