রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৩৭ পিএম
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৫৪ পিএম
অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান মজনু।
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সাত ইউনিয়নের
ইজিপিপি প্রকল্পের কাজ না করে অর্থ হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রকৌশলী
শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগের দায় নিতে নারাজ সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার
অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সাত ইউনিয়নের রাস্তাঘাট
উন্নয়নের জন্য ৮১ লাখ ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা বরাদ্দ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে এই টাকা ব্যয় করার কথা।
কিন্তু কালুখালীর মদাপুর ইউনিয়নের
চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মজনু, কালিকাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিউর রহমান নবাব ও
মৃগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমএ মতিন অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি চালু না
করে কাগজে-কলমে কাজ দেখান। তারা প্রকল্পের ৪০ লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করে সবই আত্মসাৎ
করেন। অন্যান্য ইউনিয়নে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও কিছু কাজ হয়েছে। এই কাজের তদারকি কর্মকর্তা
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বিশেষ সুবিধা নিয়ে চেয়ারম্যানদের
টাকা আত্মসাতের সুযোগ দিয়েছেন।
নিয়ম অনুযায়ী সাত ইউনিয়নে ১৯টি প্রকল্পের
মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। প্রত্যেক প্রকল্প এলাকায় অতিদরিদ্র মানুষ এই কাজ
সম্পন্ন করবে। এজন্য প্রত্যেক শ্রমিকের নামে কাজ চলাকালীন প্রতি বৃহস্পতিবার বিকাশ
অ্যাকাউন্টে বিল আসবে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম
ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ৪ শতাধিক ভুয়া বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলে এসব টাকা উত্তোলন করেছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, এরা সবাই
সচ্ছল পরিবারের সদস্য। এরা কেউই শ্রমিকের কাজ করে না। তারপরও সরকারি তালিকা মোতাবেক
এরা অতিদরিদ্র মানের শ্রমিক। তবে ভুয়া প্রকল্প ও ভুয়া শ্রমিকসংক্রান্ত দায় নিতে চায়
না তদারকি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, ভুয়া প্রকল্প ও ভুয়া শ্রমিকের দায় মদাপুর
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মজনু, কালিকাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিউর রহমান
নবাব ও মৃগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমএ মতিন বহন করবেন। কারণ টাকা তারাই উত্তোলন করেছেন।
আমি শুধু তদারকি করেছি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান অভিযুক্ত চেয়াম্যানরা
। এ ছাড়া তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। এজন্য তাদের বক্তব্য নেওয়া
সম্ভব হয়ছি।