চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:১৯ পিএম
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৪৪ পিএম
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ। প্রবা ফটো
চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি একেএম ফজলুল্লাহর চুক্তিভিক্তিক নিয়োগ বাতিল, অনিয়ম তদন্ত ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন বৈষম্যবিরোধী নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের নেতা মো. জানে আলম, ছাত্র ও যুব সংগঠক এবং ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি আবু হানিফ নোমান, ছাত্র নেতা রাসেল উদ্দীন, রায়হান উদ্দীন প্রমুখ। এ সময় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সদিউর রহিম জাদিদও উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়- যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই ওয়াসা এমডি একেএম ফজলুল্লাহকে স্বপদে বসিয়ে রেখে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্ত টিম অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবস্থাপনায় তদন্ত কার্য সম্পাদন করা হাস্যকর। এটা জনগণের সঙ্গে তামাশার শামিল। এমডি ফজলুল্লাহকে চেয়ারে বসিয়ে রেখে তার দুর্নীতি তদন্ত সঠিকভাবে সম্পাদন সম্ভব হবে না। তার অধীনে থেকে কেউ অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য দিতে সাহস করবে না। অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আগে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। পদ ছাড়লে তখনই সঠিক তদন্ত সম্ভব এবং সব অনিয়ম-দুর্নীতির বিস্তারিত খতিয়ান বেরিয়ে আসবে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়-বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সিদ্ধান্ত নেন বিগত আওয়ামী সরকার আমলে নিয়োগ পাওয়া সব চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হবে। সব চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল ও অনেকেই পদ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও, বিগত সরকার আমলে আট দফায় ১৬ বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নিয়োজিত চট্টগ্রাম ওয়াসা এমডি ফজলুল্লাহ পদ না ছেড়ে নানা চক্রান্তে নিয়োজিত রয়েছে। ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষ অবলম্বন করে অনিয়ম দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যসহ নিজের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে। এই সময়ের মধ্যে ১৪ বারের বেশি পানির দাম বাড়িয়ে চট্টগ্রামবাসীর ওপর পানির দামের বোঝা চাপিয়েছে। এখনও শহরের এক তৃতীয়ংশ মানুষ ওয়াসার পানি পায় না। আর ময়লা, লবণাক্ত পানির যন্ত্রণা ও ভুতুড়ে বিলের যন্ত্রণায় জর্জরিত। ওয়াসার বাস্তবায়ন করা ও চলমান প্রতিটি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে। এমনকি নিজের মেয়ের প্রতিষ্ঠানকে সুয়্যারেজ প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়াসহ আত্মীয়স্বজনকে চাকরি দেওয়ার ঘটনাও আছে। অনিয়মে জড়িত তার আত্মীয় ও ওয়াসা কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই দেশত্যাগ করতে শুরু করেছেন। এমডি ফজলুল্লাহ যেকোনো সময় দেশত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অতিদ্রুত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা না হলে আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী এমপিদের মতো পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই অনতিবিলম্বে চট্টগ্রাম ওয়াসার বিতর্কিত ও নানা অনিয়মে অভিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহর নিয়োগ বাতিল, তার আমলে সংঘটিত সব দুর্নীতি-অনিয়মের তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনা ও তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে।