ময়মনসিংহ মেডিকেল
শফিক সরকার, ময়মনসিংহ
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:৫৪ পিএম
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:৩৪ পিএম
আবহাওয়ার কারণে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যার চেয়ে কয়েকগুন রোগী ভর্তি। মঙ্গলবার তোলা। প্রবা ফটো
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থেকে সীমা রানী অসুস্থ শিশুসন্তানকে ভর্তি করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে। ওয়ার্ডে জায়গা হয়নি। শয্যা পেতেছেন ওয়ার্ডের বাইরে। সেখানে নেই ফ্যান। এই ভ্যাপসা গরমে অসুস্থ সন্তান নিয়ে পড়েছেন বিপদে। আরেক অভিভাবক তাদের তিন মাস বয়সের শিশু নিয়ে ভর্তি রয়েছেন হাসপাতালে। তার শয্যা হয়েছে হাসপাতালের লিফটের সামনে। লিফট থেকে নামার পরেই তার সন্তানের শয্যার ওপর পা পড়ে। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে এমনসব চিত্র দেখা গেছে মমেকে হাসপতালের শিশু ওয়ার্ডে। হাসপাতালে শয্যার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি শিশু ভর্তি রয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, পা ফেলার জায়গা নেই শিশু ওয়ার্ডে।
গরমে হাঁসফাঁসের অবস্থা যখন সবার, ঠিক তখনই এই আবহাওয়ায় নিউমোনিয়া, ডায়েরিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। শিশু রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। শুধু শিশু ওয়ার্ডে এমন দৃশ্য নয়, প্রতিটি ওয়ার্ডেই রোগীর বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
দাবদাহে নিউমোনিয়া, ডায়েরিয়াসহ নানা রোগ ছড়িয়ে পড়েছে শিশুদের মাঝে। হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। হাসপাতালের মেঝে, সিঁড়ির নিচে, এমনকি লিফটের সামনেও শিশু রোগীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। কোথাও যেন পা ফেলার জায়গা নেই। হাসপাতালের নির্ধারিত বেডের বাইরে ভর্তিকৃত রোগীর অধিকাংশ বেডের ওপরে নেই ফ্যান। একে তো প্রচুর দাবদাহ আর অন্যদিকে নেই ফ্যান, আর লোকজনের ভিড়ে যেন দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা শিশু ওয়ার্ডে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে বেড রয়েছে ৬০টি। আর গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালের ভর্তি খাতায় রোগী ছিল ৪৪০ জন। এ রকম চিত্র প্রতিদিনের। এর বাইরেও হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে রোগীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। প্রতিটি বেডের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে হাসপাতালে।
আনোয়ার হোসেন নামে অভিভাবক বলেন, ‘এভাবে হাসপাতাল চলতে পারে না। রোগীর স্বজনদের ভিড় আর গরমে অসুস্থ শিশুরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। হাসপাতালে সিট নেই, ওয়ার্ডের বাইরে রাখা হচ্ছে শিশুদের। এরপর নেই পর্যাপ্ত ফানের ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে শিশু ওয়ার্ডের করুণ দশা।’ তিনি সিট বাড়ানোর দাবি জানান।
শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘গরমে নিউমোনিয়া, ডায়েরিয়া রোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু। প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বেড রয়েছে ৬০টি। কিন্তু রোগী ভর্তি করা হয়েছে ৪৪০। রোগী ও স্বজনদের ভিড়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এরপরও আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘এক হাজার শয্যা হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার থেকে ৪ হাজার পর্যন্ত রোগী ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের নির্ধারিত বেডের বাইরে মেঝেতে ও বারান্দায় বিছানা দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এরপরও কোনো রোগীকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। চিকিৎসাসেবা দিতে আমারা সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’