× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কোথায় গেল ৯৫ আগ্নেয়াস্ত্র ও হাজার রাউন্ড গুলি

তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:৪৬ পিএম

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:৩৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বৈধ ও অবৈধ সব আগ্নেয়াস্ত্র এবং গোলাবারুদ ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সময় পর্যন্ত যশোরে ৩৬৫টি অস্ত্রের মধ্যে ২৭০টি থানায় জমা পড়েছে। বাকি ৯৫টি অস্ত্রের এখনও কোনো হদিস নেই। প্রায় এক হাজার রাউন্ড গুলিরও খোঁজ নেই। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা অবৈধ এসব আগ্নেয়াস্ত্রে অপরাধীরা অপরাধ ঘটাতে পারে।

যশোরের একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আধিপত্য বিস্তার, বিরোধীদের দমনপীড়ন, দলের শক্তি বৃদ্ধিতে সীমান্তের চোরাইঘাট দিয়ে ভারত থেকে অনেকেই অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করেছেন। যশোরের অনেক লেদের গ্যারেজেও তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র। এসব অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সময়ে মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যদের হাতে দুয়েকজন আটকও হয়েছেন।

গত কয়েক মাসে যশোর শহর ও শহরতলিতে চারটি অবৈধ অস্ত্র কারখানার খোঁজ পাওয়া যায়। ২০২২ সালের ১৩ অক্টোবর রাতে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবির একটি টিম যশোর আরএন রোডের রাঙামাটি গ্যারেজ এলাকায় একটি অস্ত্র তৈরির কারখানার খোঁজ পায়। তৈরি অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করেন তারা। নিউ বিসমিল্লাহ ইঞ্জিয়ারিংয়ের সাইনবোর্ডের অন্তরালে অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছিল। এ সময়ে আটক হয় যশোর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল কুদ্দুস ও একই গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে সুমন হোসেন এবং শহরের বেজপাড়া এলাকার এলাহী বক্সের ছেলে আজিজুল ইসলাম।

গত বছরের ২৩ অক্টোবর রাতে যশোরের চাঁচড়া ভাতুড়িয়া এলাকায় আরও একটি অস্ত্র কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। অস্ত্রসহ ইকবাল হোসেন নামে এক কারিগরও আটক হয়। সে চাঁচড়া ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ওই সময় চাঁচড়ার মধ্যপাড়া মকছেদের পুকুরের পাশ থেকে মাটি খুঁড়ে আরও একটি ওয়ান শুটারগান উদ্ধার করা হয়। এরপর চাঁচড়া ভাতুড়িয়ার দাড়িপাড়ায় তার বাড়ির খাটের নিচ থেকে দুটি ওয়ান শুটারগানের গ্রিপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ইকবাল একজন প্রশিক্ষিত অস্ত্র কারিগর এবং সে কারখানা চালাত।

এর পর গত বছরের ২৭ মার্চ রাতে যশোরের আলোচিত শংকরপুর এলাকায় সন্ধান মেলে আরও একটি অস্ত্র তৈরির কারখানা। এর ৫ মাস আগে শহরের রাঙামাটি গ্যারেজ এলাকায় আবিষ্কার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানা ও আটক হওয়া কথিত ওই কারখানা মালিকের সূত্র ধরে সন্ধান মেলে এই নতুন কারখানার। উদ্ধার হয় রিভলবার, চার রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম। আটক করা হয় অস্ত্র কারিগর ও কারখানা মালিক শাহাদত হোসেনকে (৪০)। এর তিন বছর আগে ২০১৯ সালে যশোরের ভাতুড়িয়ায় প্রথমে অবৈধ কারখানার সন্ধান পায় পুলিশ। এ সময় ওই কারখানায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ম্যাগাজিন, পিস্তল তৈরির সরঞ্জামসহ সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়া গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে অস্ত্র কারিগর কামরুল ইসলাম (৫০), কামরুলের স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা (৩৫) ও ভাতুড়িয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার নূর হোসেনের ছেলে আবুল বাশারকে (৪০) আটক করা হয়।

যশোরের বিভিন্ন বিতর্কিত ব্যক্তির কাছে এখনও অস্ত্র থাকতে পারেÑ এমন দাবি সচেতন নাগরিকের। তাই চলমান অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। যশোরসহ সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা শান্ত রাখতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী আটকের বিকল্প নেই বলেও দাবি তাদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যশোরে ৩৬৫ অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। অধিকাংশ অস্ত্রই আওয়ামী লীগ সরকারের নেতাকর্মীরা নিরাপত্তা অজুহাতে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স গ্রহণ করেছিলেন। 

যশোর র‌্যাব-৬ কোম্পানি কমান্ডার ফ্লা. লে. মো. রাসেল বলেন, অস্ত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা পার হয়েছে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফিরোজ কবির বলেন, বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের সব তথ্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। অস্ত্রের বিষয়ে তিনি ভালো বলতে পারবেন।

বিষয়টি নিয়ে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার বলেন, যৌথ বাহিনীর অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর (অপারেশন) মাসুদ রানা ও ক্যাপ্টেন নাবিল আহমেদ দায়িত্বে রয়েছেন। তারা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। 

যশোর সেনাবাহিনীর মেজর (অপারেশন) মাসুদ রানার মুঠোফোনে সংযোগ দিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যশোর পুলের হাটে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পের দায়িত্বে আছেন ক্যাপটেন নাবিল আহমেদ। তিনি বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

যশোর যৌথ বাহিনীর ক্যাপ্টেন নাবিল আহমেদের মুঠোফোনে বারবার সংযোগ দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা