চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:৫১ পিএম
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:৫২ পিএম
মালামাল সরবরাহ না করে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের তিন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।
বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এ মামলাটি দায়ের করেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আহসানুল কবীর পলাশ।
আসামিরা হলেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ফরিদ আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) পাহাড়তলী দপ্তরের উপ-সচিব মুহাম্মদ রাশেদুল আমিন, পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী তাপস কুমার দাস এবং চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজির সত্ত্বাধিকারী এএসএম ইকবাল মোর্শেদ।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, মালামাল সরবরাহ না করে সরকারের ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় একটি মামলা হয়েছে। চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাও আমলে নেওয়া হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়েতে প্রতি বছর চাহিদাপত্র অনুযায়ী বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) প্রস্তুত করা হয়। এজন্য সিঙ্গেল এপিপির মাধ্যমে অধিকাংশ মালামাল ক্রয় করা হয়। রেলওয়ে পাহাড়তলী দপ্তরের এপিপি অনুমোদন করেন এডিজি (রোলিং স্টোক)। তবে ওই দপ্তরের পাঁচ লাখ টাকার নিচের এপিপি অনুমোদন করেন দপ্তরের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক নিজেই।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী ডিপো হতে ২০২১ সালের ২৩ মার্চ ১৪৬ দশমিক ৯২৭ টনের কাঁচা লোহা ক্রয়ের চাহিদা প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পাঠানো হয়। ওই অর্থবছরে বাজেট স্বল্পতার কারণে ১৪৬ দশমিক ৯২৭ টনের পরিবর্তে ৮৫ মেট্রিকটন ক্রয় করা যেতে পারে বলে ক্রয় পরিকল্পনার অনুচ্ছেদ ৫.১-এ উল্লেখ করা হয়। সেই মোতাবেক প্রাক্বলিত ব্যয় নির্ধারনী কমিটি বাজার যাচাইপূর্বক প্রতিটন কাঁচা লোহার দাম দুই লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা নির্ধারণ করে। ওই মালামাল ক্রয়ের আনুমানিক সরকারি খরচ অনুমোদন দেওয়া হয় ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর এবং প্রতিবেদন দাখিল করা হয় একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর। সবশেষ মালামাল ক্রয়ের চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয় ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ট্রেড এবং টেকনোলজি’ প্রাক্কলন ব্যয়ের ৩১ শতাংশ কমে মালামাল সরবরাহের কথা থাকলেও মালামাল সরবরাহ না করে বিল তুলে নিয়েছে বলে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে সত্যতা পাওয়া যায়। ক্রয়ের প্রাক্কলন কমিটির সুপারিশ মোতাবেক বাজার মূল্য তিন কোটি ৪১ লাখ ৭৮ হাজার ৬০০ টাকা। টেন্ডার কমিটির সদস্যগণ ঠিকাদারের সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে লাভবান হওয়াসহ প্রতারণামূলকভাবে পিপিআর ২০০৮ এর ধারা লঙ্ঘন করে চাহিদাকৃত ১৪৬ দশমিক ৯২৭ টনের পরিবর্তে ৮৫ টন সরবরাহ দেখিয়ে মালামাল সরবরাহ না করে সরকারের ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে।